তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে ধৃত পাটুলির প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এবং তৃণমূলের যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার জেরে এক আইনজীবীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। অভিযোগ, ওই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য গত কয়েক দিন ধরেই তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার রাতে পাটুলি থানার অদূরেই ওই আইনজীবীর পথ আটকে এলোপাথাড়ি ছুরি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আক্রান্ত আইনজীবী কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং পাটুলি থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাটুলি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপ্পাদিত্য এবং সৌরভ বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আক্রান্ত আইনজীবী ওই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অভিযোগ, বুধবার রাতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ জানাতে তিনি যখন পাটুলি থানার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর পিছু নেয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি গাড়ি থেকে নামতেই দু'জন দুষ্কৃতী তাঁর সামনে চলে আসে এবং আচমকা ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি ছুরির আঘাতে তাঁর হাতের বেশ কয়েকটি জায়গা গভীরভাবে কেটে যায়। পালানোর সময় দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে বলে, এটা স্রেফ ট্রায়াল ছিল। বাপ্পাদিত্য আর সৌরভের সব কেস থেকে সরে না দাঁড়ালে পরের বার প্রাণে মেরে ফেলা হবে। দুষ্কৃতীরা সরাসরি ধৃত দুই নেতার নাম নেওয়ায় আইনজীবীর অনুমান, হামলাকারীরা বাপ্পাদিত্য ও সৌরভেরই অনুগামী।
সম্প্রতি তোলাবাজির অভিযোগে সৌরভকে গ্রেফতারের পরের দিনই বাপ্পাদিত্যকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আইনজীবীর অভিযোগ, এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করেনি বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
















