এত মদত। তারপরেও ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসমুদ্রের কাছে গোহারা হেরেছে বালিশচাটন শিবিরের  প্লাস্টিকের খালি চেয়ারভরা মেয়ো রোডের সভা। বেদম চটেছে বিজেপি ও সরকারের শীর্ষমহল। এই বিরক্তির কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে বালিশদের। 

সূত্রের খবর, বিজেপির একটি বিশেষ মহলের বক্তব্য, বালিশ শিবিরের নিজের ওজন শূন্য। পুলিশ ও "সবরকম" মদত দিয়ে তাদের দিয়ে তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিধানসভায় পদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা সেই ওজন পাচ্ছে না। কর্মীরা সঙ্গে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর গালি খাচ্ছে। কোনো সম্মান পাচ্ছে না। ২১ জুলাই তাদের সবরকম সাহায্য করা হয়েছিল। অনেক লোক হবে বলে চাটনরা বিজেপির ওই অংশকে বিভ্রান্ত করেছিল। আসলে তাদের শো সুপারফ্লপ। পুলিশরিপোর্ট, মিডিয়ারিপোর্টে তা স্পষ্ট। 

এখন এদের নিয়ে বিজেপিতেও দুটো ভাগ। সরকারঘেঁষা একটি পক্ষ এখন এগুলোকে না পারছে গিলতে না পারছে উগরোতে। স্পিকারের সৌজন্যে পদ পেয়ে কয়েকজন গোল গোল বক্তৃতা করে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করা ছাড়া কোনো কাজ নেই। তাতেও কমেন্ট সেকশন বন্ধ। সেটা খুললে উদম গালমন্দ। স্ক্রিনিং করতে লোক বসাতে হচ্ছে নিজেদেরই। এখন দুএকজন নিজের গতিবিধি দেখাতে দুতিনদিন হল কিছু ছবি পোস্ট করে মুখরক্ষা করতে চাইছে। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না। কমেন্ট খুললেই কর্মী আর মানুষের সমালোচনা। বিশ্বাসঘাতকরা বিপাকে পড়ছে। 

বিজেপির অন্য অংশ, মূলত আদি বিজেপি শিবির এদের মদত দেওয়ারই বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, এতে এলাকার বিজেপি কর্মীরা রুষ্ট হচ্ছেন। অনেক তৃণমূলির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। সেই সব নেতা এখন 'ভালো' সেজে বিজেপির বা প্রশাসনের মদত নিচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গেলে বিজেপিরই ওপরের কেউ বারণ করছেন। ফলে নিচুতলার বিজেপি কর্মীরা ফুঁসছেন। এঁদের মতে , তৃণমূল ভাঙতে গিয়ে নিজেদের ঘরেই আগুন লাগছে। এই অংশ বালিশচাটনদের ঘোরতর বিরোধী।

 এহেন পরিস্থিতিতে বালিশদের অস্তিত্বরক্ষার একমাত্র উপায় হল বিজেপির সরকারি একাংশের মদত। সেই মদত ছাড়া এরা শূন্য। কিছু বিধায়ক ও নেতাকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে আনলেও, তারাও কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, সেটা স্পষ্ট। ফলে মুখে বড় বড় কথা বললেও বেইমানির জন্য সামাজিকভাবে ধিকৃত বালিশচাটনেরা এখন বিজেপির মন রাখতে পাগলের মত আচরণ করছে। বিজেপির সরকারি শিবিরের কাছে তারা অপদার্থ বলে প্রতিপন্ন হয়ে গিয়েছে। এখন অস্তিত্বরক্ষায় দিশাহীন আচরণ চলছে। বিজেপি নিজেদের অঙ্কে এদের পুলিশি ও পরিষদীয় সমর্থন দিচ্ছে বলে এখনও টিকে আছে। কিন্তু বিজেপিতেই এই প্রশ্ন উঠে গেছে, এমন কিছু অপদার্থ পুষে লাভ কী?