ওলা বা উবেরের মতো বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির ‘শোষণ’ থেকে ট্যাক্সি চালকদের মুক্তি দিতে এবার পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে চলেছে সমবায় ভিত্তিক পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’। চালকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে রবিবার রাজ্যের সঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU) স্বাক্ষর করল ভারত ট্যাক্সি কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে এই বিশেষ ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই নতুন প্রকল্পের ফলে বাংলার হাজার হাজার ট্যাক্সি চালক সরাসরি লাভবান হবেন।
প্রথাগত চালকের ধারণার বাইরে গিয়ে এই ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ নতুন এক ‘সারথী’র রূপরেখা তৈরি করেছে কেন্দ্র। এই সমবায় মডেলে চালকেরা কেবল গাড়িই চালাবেন না, তাঁরাই হবেন কোম্পানির আসল মালিক। ফলে উপার্জিত মুনাফার সম্পূর্ণ অংশই সরাসরি যাবে তাঁদের পকেটে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী বলেন, “সারথীদের কোম্পানির মালিক বানিয়েই এই কো-অপারেটিভ ভারত ট্যাক্সি স্থাপন করা হয়েছে। যিনি গাড়ি চালাবেন, তিনি স্রেফ সাধারণ চালক নন, তিনিই গাড়ির মালিক এবং তিনিই ভারত ট্যাক্সি কোম্পানিরও অংশীদার। ফলে ব্যবসার পুরো লভ্যাংশ সরাসরি চালকের পকেটে যাবে।”
চলতি বছরই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যতিক্রমী ট্যাক্সি পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন অমিত শাহ। সেই সময় বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির চড়া কমিশন ও চালকদের একাংশকে বঞ্চিত করার নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি। প্রাথমিক স্তরে গুজরাটের ১৪টি শহরে এই পরিষেবা সফলভাবে চালু হওয়ার পর এবার তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সমবায় দফতর ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বেসরকারি সংস্থাগুলি চালকদের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে কেটে নেওয়ায় চালকদের প্রভূত ক্ষতি হতো। ভারত ট্যাক্সি সেই শোষণ বন্ধ করে যাত্রীদের ভাড়ার পুরো টাকাটাই চালকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। বাংলায় এই মউ স্বাক্ষরের পর আগামিকাল থেকেই এই পরিষেবা চালুর প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















