অফিসে ঢুকে বায়োমেট্রিক যন্ত্রের সামনে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না সরকারি কর্মীদের। উপস্থিতি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং সময়সাশ্রয়ী করে তুলতে মোবাইলভিত্তিক ‘জিও-ফেন্সড’ বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন দফতরের কর্মচারীরা একসঙ্গে নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে অফিসে প্রবেশের পর বায়োমেট্রিক যন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছাতেই অনেকটা সময় লেগে যায়। তার ওপর লিফট ধরে নিজ নিজ দফতরে পৌঁছাতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় অপচয় হয়। এই নতুন জিও-ফেন্সড প্রযুক্তি চালু হলে প্রশাসনিক স্তরে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে আশা করছেন আধিকারিকরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন এই ব্যবস্থায় দফতর চত্বরের নির্দিষ্ট ‘জিও-ফেন্স’ বা ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে প্রবেশ করলেই কর্মীদের মোবাইল ফোনে উপস্থিতি নথিভুক্ত করার সফ্টওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে। কর্মীরা নিজস্ব মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই আঙুলের ছাপ বা অন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি দিয়ে উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে পারবেন। ফলে আলাদা করে যন্ত্রের সামনে ভিড় জমানোর কোনও দরকার পড়বে না।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি একটি সম্পূর্ণ সফ্টওয়্যারভিত্তিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা। প্রচলিত হার্ডওয়্যারনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সরকারি দফতরে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিতে উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ চালানো হয়েছে এবং তা যথেষ্ট সফল হয়েছে বলেও নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার মতে, এই ব্যবস্থায় আলাদা কোনও দামি হার্ডওয়্যার যন্ত্র বসানোর প্রয়োজন নেই। তাই এটি চালুর খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। একই সঙ্গে কর্মচারীদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করার গোটা প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।