পালাবদলের পর থেকেই পূবর্তন সরকারের কাজকর্ম নিয়ে সব সময়ই সমালোচনা করে চলেছে বিজেপির(BJP) নেতা মন্ত্রীরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banarjee) সরকারকে সব কাজকর্ম বা প্রকল্পকে বাতিলের খাতায় ফেলতে পারছে না বিজেপিও।  সরকারি নথিতে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, রাজ্যে পর্যটনের প্রসারে হোমস্টে নীতি, পর্যটন পরিষেবার মানোন্নয়ন, ট্যুরিস্ট গাইড প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ‘পথসাথী’-র মতো কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যা পূর্বতন তৃণমূল সরকারের পরিকল্পনার ফসল।

 

বাজেট বিবৃতি অনুযায়ী, ‘পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন নীতি, ২০১৯’-এর পাশাপাশি ‘পশ্চিমবঙ্গ হোমস্টে পর্যটন নীতি, ২০২২’-এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যটনের প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন পরিষেবা প্রদানকারীদের স্বীকৃতি নির্দেশিকা, সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প এবং ট্যুরিস্ট গাইড শংসাপত্র প্রকল্পের মাধ্যমে পরিষেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ রয়েছে নথিতে।মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিয়ে বিজেপি নেতারা কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন, তখন পর্যটকদের জন্য রাজ্য জুড়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সরকারের যুগান্তকারী প্রকল্প 'পথসাথী'। বিশেষ করে মহিলা ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বরাবর ৬৯টি পথসাথী বা মোটেল পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের অধীন সংস্থাগুলির মাধ্যমে ৫৫টি ‘পথসাথী’ চালু রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে বিশ্রামের পাশাপাশি পেট্রোল-ডিজেল পাম্প, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, রেস্তোরাঁ ও হোটেলের মতো পরিষেবাও যুক্ত করা হচ্ছে।

 

বাজেট বইতে তুলে ধরা হয়েছে দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি আর রেড রোডে পুজো কার্নিভালের জনপ্রিয়তার কথাও! একই সঙ্গে বাজেট নথিতে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, সুন্দরবন এবং দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন পর্যটন প্রকল্পে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দেরও উল্লেখ রয়েছে।

 

ফলে বিধানসভায় রাজনৈতিক আক্রমণের মধ্যেই বিজেপি সরকারের পর্যটন দপ্তরের বাজেট বিবৃতির ছত্রে ছত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে চালু হওয়া একাধিক পর্যটন নীতি ও প্রকল্পের ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে ।

সমালোচনা করলেও আসল পরিকাঠামোগত কাজটা যে মমতা সরকারই করে দেখিয়েছে, তার অকাট্য প্রমাণ মিলছে অনুমোদিত প্রকল্পগুলির দিকে চোখ রাখলেই। বোলপুরে 'রাঙাবিতান-২ ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স' নির্মাণের জন্য বিপুল অঙ্কের ২০.৪২ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারের অরণ্য ট্যুরিজম প্রপার্টি, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম প্রপার্টি, উত্তর ২৪ পরগনার উদয়াচল এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টির উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গেই দার্জিলিং ট্যুরিজম প্রপার্টিতে যাত্রী লিফট সরবরাহ ও সংস্থাপন সহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ১.৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বলা বাহুল্য এই সব পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি বা উন্নয়নের কাজ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।