প্রাক্তন রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নাম পরিবর্তনের জেরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা রাজ্যে। বর্তমান রাজ্য সরকার তথা বিজেপি সরকারকে এই বিষয়ে কড়া আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক ঈর্ষাবশত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা সফল জনকল্যাণ মডেলগুলিকে মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ দাবি করেন যে, তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া 'সবুজসাথী'কে 'সারথি' এবং 'কন্যাশ্রী'কে 'কন্যরত্ন'-এর মতো নামে বদল করা হচ্ছে। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্পগুলির ভূয়সী প্রশংসা অন্য রাজ্যেও হয়েছে। নাম বদল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব বা সম্মান কোনওভাবেই ছোট করা যাবে না। গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে 'সবুজসাথী'র মত প্রকল্প নিছক কোনো ভাতা নয়, এগুলো সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার এক সফল মডেল। কিন্তু কেন্দ্র ও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই অবদানগুলি খর্ব করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্যসাথীর প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, "স্বাস্থ্যসাথী রাজ্যের সবাই পেতেন, কিন্তু বিজেপি বলল আয়ুষ্মান ভারত। তখন আমরা বারবার বলেছিলাম এটা সবাই পাবেন না।" এখন যাঁদের সেই সুবিধা মিলছে না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্যের ঘোষণা করা হচ্ছে—যা আসলে ঘুরপথে নাম বদল এবং ভোটের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল মাত্র।
নাম বদলের পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও নতুন সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, মাত্র দু'মাস হলো নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, অথচ রাজ্য সভাপতিকে মিডিয়ার সামনে এসে বলতে হচ্ছে এভাবে তোলাবাজি চলবে না। দিলীপ ঘোষের মতো নেতাদেরও বলতে হচ্ছে দলের মধ্যে রোগ ঢুকছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে এই সরকারের অন্দরেই দুর্নীতি ও তোলাবাজি চরমে উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের নাম বদল এবং জনস্বার্থের কর্মসূচিগুলির কৃতিত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
















