জোড়াফুল থেকে পদ্মে আসা তিন সাংসদকেই রাজ্যসভার টিকিট! ক্ষুব্ধ প্রবীণ বিজেপি নেতা

বিকেলে যোগদান, রাতে রাজ্যসভার সাংসদ পদের প্রার্থী! সুস্মিতা দেব (Susmita Dev), সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendushekhar Ray) এবং প্রকাশ চিক বারাইকের প্রতি দলের এই পক্ষপাতিত্বে বেজায় চটেছেন কোচবিহারের (Choochbehar) প্রাক্তন বিজেপি (BJP) বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে (Nikhilranjan De)। রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা।
Sponsored

তৃণমূলের (TMC) তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ- সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বারাইকের বিজেপিতে যোগদানের পরেই তাদের রাজ্যসভায় প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় গেরুয়া শিবির। আর এই সিদ্ধান্ত শোনার পর দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কোচবিহারের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক বলেন তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
Sponsored

নিখিলরঞ্জন দে জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করে পরে বিধায়ক, জেলা সভাপতি-সহ একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কথায়, "দলই আমাকে সব দিয়েছে। দলের জন্যই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি। তাই দলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কিন্তু গতকালের ঘটনা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। এমন দিন দেখতে হবে, কোনও দিন ভাবিনি।"
Sponsored

প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন গড়ে তুলতে অসংখ্য কর্মী-সমর্থক বছরের পর বছর নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বহু নেতা-কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন, বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে, মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। সেই ত্যাগের পরেও কেন তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের এত দ্রুত দলে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
Sponsored

নিখিলরঞ্জনের বক্তব্য, বিজেপিতে বহু অভিজ্ঞ, যোগ্য এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক রয়েছেন, যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কোনও অংশে কম নয়। তাঁদের পরিবর্তে সদ্য দলে আসা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে কেন, সেই ব্যাখ্যা তিনি জানতে চান। তাঁর মতে, রাজ্যসভা নির্বাচনে দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকলে বিজেপির নিজস্ব কোনও প্রবীণ বা যোগ্য নেতাকেই প্রার্থী করা যেত। বলেন, "যাঁরা রাজ্যসভার টিকিট পাবেন, তাঁরা বিধায়কদের ভোটেই জয়ী হবেন। সে ক্ষেত্রে দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে থেকেও প্রার্থী বেছে নেওয়া সম্ভব ছিল।"
Sponsored

এই সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিখিলরঞ্জন। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যেও ভুল বার্তা যেতে পারে। তাঁর কথায়, "এখন যদি বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের নেতারা দলে আসতে চান, তা হলে তাঁদের আটকাবে কে? এত দিন যাঁরা বিজেপির পতাকা আগলে সংগঠনকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন, তাঁদের অবদান এবং ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।"
Sponsored

দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি আবেদন জানিয়ে নিখিলরঞ্জন দে বলেন, সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে হলে তাঁদের প্রতি দলের দায়বদ্ধতার পরিচয় দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
3h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
4h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
5h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
7h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
8h ago





