বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই রাজধর্ম পালনের কথা জানিয়েছিলেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা, কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। সরকারি দফতরে ঢুকে বিডিওকে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছেন মণ্ডল সভাপতি, এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় সর্বত্র। 

প্রশ্ন উঠছে এই বিধায়কের ক্ষেত্রে কেন গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে না! দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে রায়দিঘির বিজেপি নেতা দলবল নিয়ে ঢুকে বিডিও-কে চরম হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।  ক্ষমতার অলিন্দে থাকা একজন নেতা যখন একটি ব্লকের সর্বোচ্চ সরকারি আধিকারিককে তাঁর চেম্বারে ঢুকে চমকান, তখন তা গণতন্ত্রের অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি দফতরে ঢুকে এই ধরনের তাণ্ডব কি সরাসরি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়? ক্ষমতাশালী জনপ্রতিনিধি হলেই কি আইনের হাত থেকে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়? আমলা ও সরকারি কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব কার? 

সাম্প্রতিক সময়ে এ-রাজ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলন বা সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ দমনে পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গেছে। ছাত্রদের ওপর জামিন-অযোগ্য ধারা এবং ‘গুন্ডাদমন আইন’ প্রয়োগ করতে প্রশাসন এক মুহূর্তও ভাবেনি, সেখানে একজন মণ্ডল সভাপতির এমন বেপরোয়া গুন্ডামির পর কেন প্রশাসন নীরব? ছাত্রদের বেলায় যে আইন অতি-সক্রিয়, বিজেপি নেতাদের বেলায় সেই আইন মুখে কুলুপ এঁটেছে?