গাড়ি থামিয়ে আশাকর্মীদের তীব্র ধমকচমক শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির (Chandan Bauri)। চুরি করে চাকরি পাওয়ার অপবাদ। আর এর পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বছর পঁয়ত্রিশের এক আশাকর্মী (Asha Worker)। ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় বাঁকুড়ার অমরকানন হাসপাতালে। অন্যান্য আশাকর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের উপর অত্যাধিক কাজের চাপ, তার উপর বিজেপি বিধায়কের (BJP MLA) হম্বিতম্বি। সেই জন্যেই মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলারা। 

রবিবারই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল (Video Viral) হয়। (ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি ‘বিশ্ব বাংলা সংবাদ’)। সেখানে দেখা যাচ্ছে গাড়ির ভিতরে বসে আশাকর্মীদের রীতিমতো ধমকাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন চন্দনা। এমনকী, এক সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “চুরি করে আশাকর্মী হয়েছেন?” অভিযোগ, আশাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে E-KYC করার কথা। কিন্তু বাঁকুড়ার ওই জায়গায় উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে নেওয়া হচ্ছে। কেন এটা করা হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি হচ্ছে। সরকারের বদনাম হচ্ছে। রীতিমতো কটাক্ষ করে চন্দনা বলেন, “আপনারা কি টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন? নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সাধারণ মানুষকে কেন ভোগান্তির মুখে ফেলছেন?” বারবার আশাকর্মীরা বিনীত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যে অতিরিক্ত কাজের চাপেই তাঁদের এই ভাবে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই কথা শুনতেই রাজি হননি বিজেপি বিধায়ক। 
এরপরে রবিবার সেই আশাকর্মীদের মধ্যে একজন বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে আসার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আশাকর্মীরা। হাসপাতালে দেহ ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, তার উপর চন্দনা বাউড়ির ধমকের জন্যেই এই অঘটন। এই পরিণতির তাঁদেরও হতে পারে বলে অভিযোগ করেন আশাকর্মীরা। 
সোমবার অমরকানন হাসপাতালে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান ব্লকের সমস্ত আশাকর্মী। মৃতার দেহ আটকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলাশাসক, বিডিও, আইসি-সহ পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেও সেখানে বিক্ষোভ দেখান আশাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজে চাপিয়ে দেওয়ায় রাত ১০ পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের। তার উপর বিধায়কের ভর্ৎসনা-অপবাদ। আর এর জেরেই সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
















