হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে আমূলের বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন কারখানার শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নয়া আলোচনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের উপস্থিতিতে এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে এই প্রকল্পকে ঘিরে বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এই তৎপরতাকে কটাক্ষ করেছে পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এই মেগা প্রকল্পের সম্পূর্ণ রূপরেখা ও লগ্নি নিশ্চিত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই, এখন বিজেপি সরকার এসে স্রেফ তার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS)-এর মঞ্চেই আমুলের মূল সংস্থা ‘গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন’-এর কর্ণধার জয়েন মেহতা এই ঐতিহাসিক বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময়েই কলকাতায় দৈনিক ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদন এবং ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি পনির, ঘি ও আইসক্রিম তৈরির এই সুবিশাল প্রকল্পের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়। ১৬ ও ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক, বন্দর এবং রেল যোগাযোগের কৌশলগত সুবিধার কথা মাথায় রেখে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্ককে এই কারখানার জন্য বেছে নেওয়ার মূল মাস্টারস্ট্রোকটি ছিল পূর্বতন সরকারেরই।
তৃণমূলের অভিযোগ, নিজেদের যোগ্যতায় রাজ্যে বড় কোনও শিল্প আনতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান বিজেপি সরকার পূর্বতন সরকারের তৈরি করা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিতে কাটা এবং শিলান্যাস করার রাজনীতি করছে। অন্যের আনা প্রকল্পে নিজেদের নামের বোর্ড ঝুলিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার এই চেষ্টাকে সস্তার ‘স্টিকার পলিটিক্স’ বলেও কটাক্ষ করেছে তারা।
পাল্টা রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই ধরণের বৃহৎ শিল্প প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন ও শিলান্যাস বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন যে স্তরেই থাকুক না কেন, সাঁকরাইলের এই মেগা কারখানার হাত ধরে আগামী দিনে রাজ্যে যে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হতে চলেছে, তা নিয়ে আশাবাদী শিল্প ও অর্থনৈতিক মহল।
















