আরজি কর ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ধীরগতির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আরজি কর মামলায় ধর্ষণ ও খুনে আর কতদিনে বিচার সিবিআইকে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে চূড়ান্ত ভর্ৎসনার মুখে সিবিআই।
রাজ্য সরকারের পুলিশের তদন্তে আস্থা ছিল না নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। দু বছর কেটে গেলেও এখনও তদন্ত সেভাবে গতি পায়নি। কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর পেশ করা রিপোর্ট ও কার্যপদ্ধতির গলদ তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের শুনানিতে সওয়াল জবাব পর্বে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শেষ দুবছরে সিবিআই কি তদন্ত করেছে তার স্পষ্ট রূপরেখা নেই। মায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিও রেকর্ডিং আমরা দিয়েছি। শেষ রাতে ১৬ জন ছিল। একজন লোকাল ব্যাংকের ম্যানেজারের টিআই প্যারেড করা হয়। তার পক্ষে কি সম্ভব? সিবিআই আমাদের অতিরিক্ত হলফনামা অনুযায়ী গেলে তদন্তে আরও কিছু উঠে আসতো।
বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, এই সব বক্তব্য গুলি নেওয়া হয়েছে কি আমাদের নির্দেশের পরে?আপনাদের রিপোর্ট থেকেই তথ্য প্রমাণ নষ্ট, বডি টেনে আনার উল্লেখ রয়েছে। এর আগে আমরা আপনাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম সেটা আপনারা নাকি বুঝতেই পারেননি। এটা তো অবস্থা। ঘটনার দিন রাত থেকে শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে পুনরায় যান। আগের তদন্ত যা হয়েছে তা সরিয়ে নতুন করে তদন্ত করুন। এভাবে কতদিন আমরা মামলা বিচারাধীন রাখবো। সকলে বিচার চাইছে। কতদিন সবাই বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে?
সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী পাল্টা বলেন, জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায় তাঁর সঙ্গে শেষবার ডিনার করেছে নির্যাতিতা। তাঁর বয়ান নেওয়া হয়নি।
আমরা প্রতিটি অভিযোগ খুঁটিয়ে দেখছি। আমাদের অফিসার কিছু ভুল হলে নিশ্চয় খতিয়ে দেখবেন। আমাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হোক।
এই শুনে বিচারপতি বলেন, একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে কাঠামো ভেঙে ফেলা আপনারা বিষয়টির মধ্যে ঢুকেছেন? তদন্তটা এমন নয় যে জলপাইগুড়ি জেলা থেকে কোনো পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়া। আমরা ট্রায়াল কোর্ট নই। আমরা বিষয়টি মনিটরিং করছি। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ অগস্ট।
















