বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সনাতন ঐতিহ্যের সুরক্ষাকে পাখির চোখ করে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তারকেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী শ্রাবণী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হলো দেশ, ধর্ম ও ঐতিহ্যরক্ষার বার্তা। বিগত সরকারের আমলের ‘তোষণ’ ও চরম অবহেলার নীতিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পরিবর্তনের বাংলায় অবহেলার দিন এবার শেষ। নবরূপে সেজে ওঠা তারকেশ্বরই হতে চলেছে নতুন বাংলার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পুনরুত্থানের প্রধান প্রতীক।
রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবার শ্রাবণী মেলাকে এক নজিরবিহীন গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রথমবার এই মেলাকে ‘জাতীয় উৎসব’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও ভক্তিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে ও নতুন অভিজ্ঞতায় দেখা যাবে এই ঐতিহাসিক মেলাকে।
প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে লক্ষ লক্ষ শিবভক্ত ও পুণ্যার্থী তারকেশ্বরে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে আসেন। এই বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে এবং পুণ্যার্থীদের মর্যাদা রক্ষার্থে এবার সমগ্র মন্দির চত্বরকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আগামী ১৮ তারিখ থেকে এই মেলা শুরু হতে চলেছে।
পুণ্যার্থীদের যাত্রাপথে যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্যাওড়াফুলি থেকে শুরু করে তারকেশ্বর পর্যন্ত ভক্তদের যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করা থাকবে, যেখান থেকে জল, ওআরএস-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিষেবা দেওয়া হবে। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে অত্যন্ত আঁটসাঁট। বিগত তৃণমূল আমলকে খোঁচা দিয়ে এদিন মনে করিয়ে দেওয়া হয়, আগে হাতে গোনা ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে নামমাত্র নজরদারির দায়িত্ব সারা হত। কিন্তু এবার ভক্তদের সুরক্ষায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জমিদার প্রথা উঠে গিয়েছে। এখন লোকধর্ম পালন করতে হয়। এবারের শ্রাবণী মেলা ভক্তদের জন্য মধুময় ও সুখকর হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ৬৫ দিনে যে টুকু ফাঁকফোকড় রয়ে গেল, আগামী দিনে সবটা পূরণ করব।”
মঞ্চ থেকে নিজেকে ভক্তদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী এক বড় চমক দেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি যোগীকে দেখে অনুপ্রাণিত। সেখানেও জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। এখানেও যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে হেলিকপ্টার থেকে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।” দেশ, ধর্ম ও ঐতিহ্যেরক্ষার এই বার্তা দিয়ে পরিবর্তনের বাংলায় এক নতুন ধারার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
















