ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে জনগণের সেবায় ব্রতী বিজেপি সরকার। উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ উত্তর থেকে দক্ষিণজুড়ে। সেই তালিকায় জুড়ল চা শ্রমিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) বড় ঘোষণা। বঙ্গে এবার 'প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা' (PMCSPY), বরাদ্দ ৩১৩.৩০ কোটি। যুগান্তকারী এই পরিবর্তনে খুশির জোয়ার উত্তরবঙ্গ জুড়ে। 

বিগত কয়েক বছরে একের পর এক চা বাগান বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকদের সমস্যা বেড়েছে। অসহায় হয়ে কেউ কেউ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও ভেবেছেন। বিরোধী দলনেতা থাকার সময় থেকেই চা শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশার কথা অনুভব করেছিলেন শুভেন্দু। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া কোনটাই হয়নি বলে বারবার বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্ষমতায় এলে অবস্থার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও মিলেছিল। এবার তা সত্যি হল, করে দেখালেন শুভেন্দু অধিকারী।অন্ধকার সময় কাটিয়ে উত্তরবঙ্গ জুড়ে উন্নয়ন আর খুশির আলো, নেপথ্যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার দ্রুত অগ্রগতির লক্ষ্যে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। চা শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনায় (CSSSY) চা বাগান এলাকার স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। চা শ্রমিক পরিবারের শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন ও মান উন্নয়নের জন্য (CSSY) ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। CSAY অর্থাৎ চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনায় ৩২১টি (সমতলের জন্য ২৩৩ ও পাহাড়ি এলাকায় ৮৮) আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্য ধার্য করা হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। জেনে গিয়েছে প্রতিটি বিশ্রামাগারে থাকবে অফ গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত সেরামিক ফ্লোরযুক্ত শৌচাগার।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম থেকেই সব দফতরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। যেভাবে প্রতিটা প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি প্রকল্পের অধীনস্থ পরিষেবা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে যথেষ্ট এগিয়ে রাখবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। চা শ্রমিকদের জন্য যে ঘোষণা হয়েছে সেখানেও স্বাস্থ্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে CSAY প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে (NBDD)। এই পদক্ষেপের ফলে চা শ্রমিকদের উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাগানগুলির সমস্যার সমাধান এবং এই শিল্পের সার্বিক অবস্থার সুরাহা হবে বলেও আশ্বাস মিলেছে।