বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ টাওয়ারের (Renaissance Tower, Bardhaman) জিম থেকে এসটিএফ (STF) হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal) নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। জেরা করে প্রকাশ্যে আসে বিস্ফোরক তথ্য। শনিবার ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা (STF IG Gaurav Sharma) জানিয়েছেন তাঁদের হাতে বেশ কিছু সূত্র আসে যার মাধ্যমে হামিম মণ্ডল ধরা পড়ে। অবশেষে তাঁকে জেরা করেই পাক-যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা দফতর।

মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister) টার্গেট করে ধৃত জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের পাক-যোগ নিশ্চিত করে শনিবার এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই (Chief Minister Suvendu Adhikari) ছিল টার্গেট। হামিমের ‘টাস্ক’ ছিল সারাদিন ধরে তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি রাখা। পাক হ্যান্ডলাররা তাঁর হাতে এই দায়িত্ব দেয়। পাকিস্তানের ‘শেহজাদ ভাট্টি’ গ্যাংয়ের ('Shehzad Bhatti' gang) সঙ্গে যোগ ছিল এই জঙ্গির। 

গৌরব শর্মা জানান হামিমকে জেরা করে দেখা যায় রানা, উজায়ের-সহ কয়েকটি হ্যান্ডেলে ইনস্টাগ্রামে ফলো করা হত। নিজেদের মধ্যে এনক্রিপটেড কোডে চ্যাট চলত। টেলিগ্রাম (Telegram), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ব্যবহার যদিও খুব কম হত। মৌলবাদী ভাবধারায় মগজধোলাই করা হত এবং হামিম সেই মগজধোলাইয়ের শিকার। পরে পাক জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হয়ে বাংলায় বেশ কয়েকটি অপারেশন শুরু করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার কথা তাঁকে বলা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোন খামতি আছে কিনা সেই বিষয়ের তথ্য জানার কাজ ছিল হামিমের। ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট ছকতে সুবিধা করতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে এসটিএফ সূত্রে খবর। 

তবে হামিমের টার্গেটে ছিলেন হাওড়ার উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপে’র মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, অপহরণ করে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।