তোলাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ। বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা থেকে শুরু হওয়া সংঘাত গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। চলল বোমাবাজি। এমনকী রেহাই পেল না স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। আহতদের চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়ে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চার জন দলীয় কর্মী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে রহড়া থানার পুলিশ। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে খড়দহের বন্দিপুর অঞ্চলের ঠাকুর কলোনি এলাকায় বিজেপি-র একটি দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেখানে দলের একাংশের তোলাবাজি এবং তথাকথিত ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে সরব হন কিছু কর্মী। তা নিয়ে প্রথমে তীব্র বাদানুবাদ এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি চরম আকার নেয় এবং এলাকায় বোমাবাজি শুরু হয়। বোমার আঘাতে চার জন বিজেপি কর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। 

তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে বন্দিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু উত্তেজনার আঁচ পৌঁছায় সেখানেও। অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনেই ফের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরেও একাধিক বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রহড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সেখানেও পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টাও চলে বলে অভিযোগ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। 

এই ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। এক শিবিরের দাবি, দলের নব্য কিছু নেতা বহিরাগত দুষ্কৃতীদের মদত দিয়ে দলের পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্য গোষ্ঠীর তরফেও পাল্টা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাতুলিয়া এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আশিস চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাতুলিয়া ও বন্দিপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ পিকেট।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রহড়া থানা। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।