সমুদ্রে ট্রলার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের এক বিশেষ সহায়তা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারগুলির হাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন তিনি।
একইসঙ্গে শোকগ্রস্ত পরিবারগুলির কর্মক্ষম তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ১৫জন মৎস্যজীবী। এরপরেই ট্রলারডুবিতে মৃত্যু হয় ৯ মৎস্যজীবীর। রামনগরের ওই নিহত ৯ মৎস্যজীবীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য় করল রাজ্য সরকার।
দুর্ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও হাওড়া এবং নদিয়ার একাধিক বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। উড়িষ্যার তিন জন মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারকেও রাজ্য সচিবালয়ের মাধ্যমে সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তার কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। অর্থ দিয়ে স্বজন হারানোর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মিশন বাৎসল্য' প্রকল্পের আওতায় অনাথ শিশুদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার জন্য মাসে ৪,০০০ টাকা করে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকার 'অন্নপূর্ণা যোজনা' এবং বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার আওতায় আনা হবে। এছাড়াও গৃহহীন পরিবারগুলিকে 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা'য় ঘর বরাদ্দ নিশ্চিত করতে রামনগর-১ ব্লকের বিডিও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেন, রাজ্যে একাধিক কোস্টাল থানা তৈরি হলেও বিগত দিনে প্রয়োজনীয় বোট বা সরঞ্জাম জোগানো হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ ব্যাহত হত। তিনি জানান,"খেজুরি, হিজলি থেকে উদয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত মোহনা ও উপকূল এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে দিঘায় ৫০ জনের একটি বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হচ্ছে।" সমুদ্রে যাওয়া ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প 'সাগরমালা ২' এবং 'প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা'র আওতায় জিপিএস, আধুনিক ওয়ারলেস ও স্যাটেলাইট ভিত্তিক আগাম আবহাওয়া সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
















