গুন্ডা দমন মিল রাষ্ট্রপতি ফেরত পাঠিয়েছেন, শুক্রবার সারাদিন এই ইস্যুতে সরগরম থাকলো রাজ্য রাজনীতি। দিনের শেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM suvendu Adhikari)। যাবতীয় জবাব দিতে শুক্রবার রাত ন'টা ৪০ মিনিটে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে বিরোধীদের জবাব দিলেন।
গোটা বিষয়টা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, গুন্ডা দমন বিল নিয়ে মিথ্যে প্রচার হচ্ছে। ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারে এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি বিলটা। ফলে ফেরত আসার কোন বিষয় নেই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গল্পের গরু গাছে তুলবেন না। যান ডিনার করে শুয়ে পড়ুন।” সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিলে কোথাও গুন্ডা শব্দটা লেখা নেই। যারা গুন্ডা তারাই এই প্রচার করছে। সাংবাদিক বৈঠক করছে। সংবিধানের দেওয়া ক্ষমতা বলেই আমরা এই বিল এনেছি এবং আইন মেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছি। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আইন বিভাগ সহ অন্যান্য বিভাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে বিলটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে।”
শুভেন্দুর দাবি, সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘এটা সম্পূর্ণ ফেক, বেসলেস এবং আর্টিফিশিয়ালি তৈরি করা সংবাদ। যারা আনন্দ প্রকাশ করছেন, তাঁরা আসলে এই আইনের ভয়ে রয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিলের দুটি অংশ রয়েছে। তার মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের সংক্রান্ত অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। সেই আইনের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় পদক্ষেপও করা হয়েছে। অপর অংশে নির্দিষ্ট অপরাধকে অজামিনযোগ্য করার প্রস্তাব থাকায় সংবিধানের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে বিলটি পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যে মাদকবিরোধী আইন আছে। সেখানে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাসের সাজা জামিনযোগ্য রয়েছে। রাজ্য সরকার মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ৩ বছরে শাস্তিকে জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে গুন্ডা দমন বিলের এই প্রস্তাবকে রাষ্ট্রপতি মান্যতা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের ধারণা স্পষ্ট। আমরা ক্ষমতার মধ্যে থেকেই যা করার করেছি। রাষ্ট্রপতির কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে বিল পৌঁছায়নি। কান দিয়ে দেখে যারা এসব করছেন তাদের চোখ দিয়ে দেখার অনুরোধ করব।”
সকাল থেকেই জানা গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি বিল লোকভবনে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বিধানসভা অধিবেশনে ঘটা করে গুন্ডাদমন বিল পাশ করায় বিজেপি সরকার। তার পরে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা এই বিলের জুজু দেখিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির সই না হলে কোনও বিলই আইনে পরিণত হয় না। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই বিলটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupodi Murmu) কাছে পাঠানো হয়। আগেই জানা যায়, বিলে স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি। এবার খবর বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি।
















