একদিকে পুলিশ দিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করার চেষ্টা, অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের অনুগামীদের হুমকি- চোখরাঙানির মাঝেই আজ হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে (Srirampore, Hooghly) জনসভা করতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর এই প্রথম কলকাতার বাইরে সভা করবেন দলীয় সুপ্রিমো। বিকেল চারটে থেকে এই সভা করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মঞ্চ বাঁধার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠ খুব সংকীর্ণ তাই ১০০০ মানুষের জমায়েতেই সভা করতে হবে মমতাকে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার জানান, প্রশাসনিক অসহযোগিতা মমতার সভা আটকাতে পারবেনা। জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সুপ্রিমোর কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষ ও শ্রীরামপুর অঞ্চল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উন্মাদনা রয়েছে।এদিন সকাল থেকে মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হওয়ার কথা।


বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর কলকাতার বুকে দুটি বড় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন মমতা। বিড়লা প্লানেটোরিয়ামের সামনে একুশে জুলাই এবং ২৮ অগাস্ট যে রেকর্ড ভিড় হয়েছিল তাতে একথা স্পষ্ট যে, নির্বাচনী পরাজয় মমতার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমাতে পারেনি। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রথমে গত ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট মিছিল পর্যন্ত সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) মামলাটি করেন। মিছিলের বদলে সভা করার অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। মাহেশ স্নানপিঁড়ির মাঠে সভা সংক্রান্ত আপত্তি-জটিলতা কাটিয়ে ঠিক হয় কোর্ট মাঠে জনসভা করতে পারবেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরও ক্রমাগত তৃণমূলের কর্মী সমর্থককে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হচ্ছে বলে শুক্রবারও অভিযোগ করেছেন কল্যাণ।
আরও পড়ুন: শ্রীরামপুরে মমতার সভা, কর্মীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ কল্যাণের
একদিকে যখন জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ECI), সঙ্গে আবার দলের প্রতীক এবং মমতার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে ভোটে জিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা করে ক্ষমতা জাহির করতে চাইছে 'গদ্দাররা', ঠিক সেই আবহে বাংলার অগ্নিকন্যার ফের স্বমহিমায় ময়দানে নামার অপেক্ষা করছেন তাঁর অনুগামীরা। ভোট চুরির দায়ে অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি থেকে রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী কতটা সুর চড়ান এবং আগামী দিনের লড়াইয়ের লক্ষ্যে তাঁর কর্মীদের কী বার্তা দেন তা জানতে মুখিয়ে রয়েছেন শ্রীরামপুরবাসী।
















