বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ! এবার প্রাণ গেল দলেরই এক কর্মীর। মেদিনীপুরে (Midnapore) দলের অন্দরের বিবাদকে কেন্দ্র করে ৩২ বছরের সামশের বিশ্বাসকে (Samsher Biswas) পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানা (Kotwali Police Station) এলাকার কদমতলা বাজারে (Kadamtala Market) ঘটে এই ঘটনা। রড, লাঠি ও ইট নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) প্রকাশ্যে এসেছে।

সকালে বাজারে বসেছিলেন সামশের ও তাঁর মামা জাফর বিশ্বাস-সহ কয়েকজন। অভিযোগ, আচমকাই তাঁদের উপর হামলা শুরু হয়। হামলায় গুরুতর জখম হন সামশের এবং আরও এক বিজেপি কর্মী। দ্রুত তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Midnapore Medical College and Hospital) নিয়ে যাওয়া হলেও সামশেরকে বাঁচানো যায়নি। 

ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর বিবাদ রয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবারই মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় নেতৃত্বের বদল হয়েছে। সমিত মণ্ডলের জায়গায় নতুন সভাপতি হয়েছেন সৌমেন তিওয়ারি (Soumen Tiwari)। নিহত সামশের এবং আহত জাফরকে সমিত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক সমীকরণ থেকেই দলের অন্য শিবিরের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। নেতৃত্ব বদলের পরদিনই দলের এক কর্মীর এমন পরিণতি হওয়ায় বিজেপির অন্দরের কোন্দল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অজয় জানা (Ajay Jana, Vice-President of the Medinipur Organizational District) জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নন বলেই তাঁদের দাবি। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে দলের অন্দরের বিবাদকে কেন্দ্র করে বিজেপিরই এক কর্মীর মৃত্যু ঘিরে মেদিনীপুরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন গোষ্ঠী লড়াই কি শেষ পর্যন্ত দলের কর্মীর প্রাণ কেড়ে নিল?