অবৈধ জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কড়া অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। এই ইস্যুতে শুধু পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নয়, বামেদেরও নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari )। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথযাত্রা উপলক্ষ্যে ভান্ডারা লুঠ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআরের সময় অবৈধভাবে জন্ম সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাকের লোকজনের মাধ্যেম প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের নির্দেশে যেভাবে অবৈধ বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে তাতে রাজ্যের ও দেশের সুরক্ষায় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আমরা যত রেকর্ড ছিল বাজেয়াপ্ত করলাম। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য ব্যবস্থা করে স্ক্যান করে সিল করে ফেরত দেওয়া হবে।
এখানেই থেমে না থেকে শুভেন্দু আরও বলেন, "আজকের পর ওখানে আর কোনও কলম, কালি লাগানোর থাকবে না। এটা একটা বড় দুর্নীতি।এটা শুরু করেছিল সিপিএম। আমাদের শুধু ১৫ বছর নয়, তার আগের জঞ্জালও সাফ করতে হচ্ছে, ফলে কিছুটা সময় লাগবে। ভারতের কোনও রাজ্যে পুরপ্রধান, মেয়র বা পঞ্চায়েত প্রধানদের জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা নেই, শুধু বাংলাতেই ছিল। আমরা মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার থেকে তাদের এই ক্ষমতা থাকবে না। পৌরসভায় ইআরও, কর্পোরেশনে কমিশনার, পঞ্চায়েতে সচিবরা এই কাজ করবেন। "
একই সঙ্গে শুভেন্দু বলেন, শরণার্থীদের নামে যাঁদের সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে সিএএ-তে অনুমোদিত, তাঁদের কিছু করব না। আর যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের তাড়াব। তাদের যারা সার্টিফিকেট দিয়েছে প্রথমে বিভাগীয় তদন্ত হবে। সাসপেন্ড হবে। এবং জেলে যাবে। তাদের বলতে হবে যাকে নিয়ে করেছে তার নামও।”
শুক্রবার পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে প্রতিবাদে নামছে পড়ুয়ারা৷ কলকাতাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির নিয়েছে ছাত্র-যুবরা। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন হলে কিছু করব না হোস্টেল থেকে জোর করে নিয়ে এলে অ্যাকশন নেব। কয়েকদিন আগে যাদবপুরে এই ঘটনা ঘটেছে আমি আজ উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন হলে সাহায্য করে। কয়েকদিন কংগ্রেসকে যুবভারতী স্টেডিয়াম দিয়েছিলাম। আসল তৃণমূল দাবি করাদের ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র দিয়েছিলাম। কর্পোরেশনকে বলা ছিল জলের গাড়ির জন্।"
গুপ্তিপাড়ার ২৮৬ বছরের ঐতিহ্য মন্ডিত ভান্ডারা লুঠ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
















