তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। কাচের টুকরো ছিটকে এসে বিধায়ক জখমও হয়েছেন। ঘটনার পর আর সভার দিকে এগোতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার শ্রীরামপুরে তৃণমূল নেত্রীর সভা উপলক্ষে জি টি রোড ধরে যাচ্ছিলেন কুণাল। অভিযোগ, উত্তরপাড়া এলাকায় প্রথম দফায় একদল লোক তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সেখান থেকে কোনোমতে কিছুটা এগোতেই পরবর্তী একটি জায়গায় ফের পথ আটকানো হয় গাড়ির। নাকা চেকিংয়ের আদলে রাস্তা আটকে মুহুর্মুহু ডিম, পাথর ও ইট ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। কুণালের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে। তিনি জানান, বড় লোহার রড ও ভারী পাথর দিয়ে গাড়ির চালকের বাঁদিকের কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। সেই জানলার ধারেই বসেছিলেন তিনি। কাচ ভেঙে তাঁর ঘাড় ও শরীরে বিঁধে রক্তপাত ঘটে। গোটা ঘটনার সময় এলাকায় কোনো পুলিশকর্মীকে দেখা যায়নি বলেও তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। আদালত অনুমোদিত সভায় যাওয়ার পথে কেন এমন আক্রমণের মুখে পড়তে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কলকাতায় ফিরে সরাসরি ভবানী ভবন বা লালবাজারে গিয়ে পুলিশের কাছে পুরো বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান তিনি।

এদিকে এই ঘটনার কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, উত্তরপাড়ায় তৃণমূল বিধায়কের উপর সংঘটিত বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা করছে কংগ্রেস। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে বারুইপুর আদালতে বামপন্থী আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের ওপর আক্রমণের ঘটনাতেও কংগ্রেস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। শুভঙ্করের কথায়, আজ আবার স্পষ্ট হলো রাজ্যে আইনের শাসন নেই, শাসকের আইন চলছে। বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতি যারা আমদানি করছে, তারা আগুন নিয়ে খেলছে এবং সেই আগুনে একদিন নিজেদের হাত পুড়বে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে যেকোনো হিংসা ও অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোই কংগ্রেসের নীতি বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।