উপনির্বাচনের প্রচার সভায় অংশ নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শনিবার সন্ধ্যায় রেজিনগরের দাদপুরে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।

মহুয়া মৈত্র বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজ্যের সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাসফুল প্রতীকে দু’কোটি ষাট লক্ষের বেশি ভোট দিয়েছেন। সেই বিপুল জনসমর্থন কোনোভাবেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে না। জনগণের আশীর্বাদই দলের মূল শক্তি। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও আগামী ৬ অক্টোবর ব্যালট বাক্সে রায় দিয়ে তৃণমূল নেত্রীর প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করবেন।

মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রেজিনগরে যাঁদের কারণে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাঁরা জনমতকে অসম্মান করেছেন এবং বিরোধীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় জড়িয়ে পড়েছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ধরনের ভূমিকার উপযুক্ত জবাব গণতান্ত্রিক পথেই দেওয়া প্রয়োজন। মহুয়ার অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের অধিকার খর্ব করতেই বেছে বেছে মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে তিনি এলাকার ভোটারদের কোনো প্রকার ভীতি বা আশঙ্কায় কান না দিয়ে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর দাবি, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে এলাকায় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের আধার কার্ড বা পরিচয়পত্র কোনো অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে তুলে না দেওয়ার জন্য তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন করেন। সেই সঙ্গে ধর্মীয় ভাবাবেগ বা বিভাজনের রাজনীতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজে এক সনাতন ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। ধর্মপালন বা উৎসব পালনের ক্ষেত্রে কারোর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, ২০২৯-এর সাধারণ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ যাবতীয় অন্যায়ের সঠিক জবাব দেবে। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে ফুটবল খেলোয়াড় চিহ্নে বিপুল ভোটে জয়ী করার আবেদন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মহুয়া। এদিনের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী আলিফা আহমেদ, মুর্শিদাবাদ জেলা নেত্রী শাওনি সিংহ রায়, বিধায়ক বাবর আলীসহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব।