শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আচমকাই সভার মাথার উপর একটি ড্রোন (Drone) উড়তে দেখা যায়। আর তা দেখেই মঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল নেত্রী। ড্রোনটির দিকে তাকিয়ে মমতা বলেন, "চোরের মতো পালাচ্ছে।'' কে বা কারা ড্রোনটি ওড়াচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার অভিযোগ, তাঁর সভায় নজরদারি চালানো এবং কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিজেপি (BJP) ও স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক বাধার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, সভায় কর্মী-সমর্থকদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আগের রাত থেকেই তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে 'INDIA' বৈঠকে যাবেন, রং বিভেদ ভুলে বিরোধী- ঐক্যের ডাক মমতার

আকাশের দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেন, "একটা ড্রোন ঘুরিয়ে দেখছে কে কে এসেছে মঞ্চে"। এরপর ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করে ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, "চোরের মতো পালাচ্ছে, চোরের মতো পালাচ্ছে দেখুন"। তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "দেখুন আপনাদের সামনে প্রমাণ করে দিলাম, কে কে বসে আছে। রাত্রি থেকে নাকি সবাইকে অ্যারেস্ট করেছে।'' বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে ড্রোনের এই নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, "ড্রোনের নৃত্য হচ্ছে, মাঠে যখন কোনও লোক নেই ড্রোনের নৃত্য হচ্ছে। আরে কার চক্রে পাখি মিলল রে। আমি তো চালিয়ে এসছি পনেরো বছর, আমি তো জানি কোন দিক থেকে কী হয়"। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে এই ধরণের নজরদারি বা ভয় দেখানোর কৌশল তাঁর জানা রয়েছে।

আরও পড়ুন: পার্টি অফিসে ভাঙচুর, থানাতেই হাতাহাতির উপক্রম! প্রকাশ্যে বিজেপির কোন্দল

নিজের এবং অন্যান্য নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, "আমাদের কারও কোনো সিকিউরিটি নেই, সব উইথড্র করে নিয়েছে। আমার বাড়ির সামনে কিছু স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক দাঁড়িয়ে থাকে, কে আসছে তার গাড়ির নাম্বার ইনক্লুডিং প্রেস, কে আসছে তার পরিচয়, তার গাড়ির নাম্বার দেখছে আর রাস্তায় কে চেকিং করছে, এটা চলে না"। এর পাশাপাশি উৎসবের মরসুমের পর রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, "কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না। গরিবরা কাঁদছে, হকাররা কাঁদছে। বিজয়া দশমীর পর আমাদের ছট পূজা আছে, আমাদের কালী পুজো আছে, আমাদের লক্ষ্মী পুজো আছে। এই পরবের পিরিয়ডটা কেটে যাওয়ার পর আর একটা দশমী করব আমরা"। এরপরেই সাধারণ মানুষকে নির্ভীক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "ভয় পাবেন না, যত একটা অ্যারেস্ট করবে পাঁচজন বেরিয়ে আসবে। একটাকে অ্যারেস্ট করুন, আমি সবাইকে বলব অ্যারেস্টের জন্য তৈরি থাকুন। কিসের ভয়? গণতন্ত্রে অ্যারেস্ট করে আটকাতে পারে না। এই ভয়টা ভাঙুন, ভয় ভাঙুন দেখবেন জয় হবেই। নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার"।

প্রসঙ্গত, এদিনের সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল। শ্রীরামপুরের পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে কালো পতাকা দেখানো হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও ডিম ছোঁড়ার অভিযোগও ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে জনসভার উপর ড্রোন ওড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ড্রোনটির উৎস এবং সেটি ওড়ানোর অনুমতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।