রাজনৈতিক টানাপড়েন, আদালতের শর্ত এবং মাঠের জল-কাদা— কোনও প্রতিকূলতাই শেষ পর্যন্ত অন্তরায় হতে পারল না। সব বাধা উড়িয়ে দিয়ে শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশ পরিণত হলো জনসমুদ্রে। নির্বাচন-পরবর্তী আবহে কলকাতার বাইরে নেত্রীর এই প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটল বাঁধভাঙা ভিড়ে।
এই সভার প্রেক্ষাপট অবশ্য মসৃণ ছিল না। স্থানীয় স্তরে বিরোধীদের পক্ষ থেকে সভা আটকানোর নানা চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টি পৌঁছয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত কিছু শর্তসাপেক্ষে শনিবার কোর্ট ময়দানে সভার অনুমতি দেয়। ফলে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল এই সমাবেশের দিকে।
শনিবার সকালের দিকেও পরিবেশ ছিল বেশ থমথমে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর আকাশের মুখ ছিল মেঘলা। দুপুর বারোটা নাগাদ কোর্ট ময়দানে পৌঁছে দেখা যায়, মঞ্চের কাজ তখনও শেষ হয়নি। বড় বড় ঘাস আর গোড়ালি সমান জমা জলে কার্যত বেহাল অবস্থা মাঠের। চারপাশে দলীয় পতাকা বা পোস্টারের বাহুল্যও চোখে পড়েনি। প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ। অভিযোগ ওঠে, মহকুমা শাসকের দফতরের ঠিক পাশেই মাঠের জমা জলে মশার লার্ভা ঘুরে বেড়ালেও মাঠ পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপরন্তু দুপুরের পর থেকে এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় মানুষের যাতায়াত নিয়েও সংশয় তৈরি হয়।
তবে ঘড়ির কাঁটায় তিনটে বাজতেই সম্পূর্ণ বদলে যায় চত্বরের চিত্র। ছোট ছোট দলে মানুষ মাঠে পৌঁছতে শুরু করেন। জমা জল ও কাদা পায়ে মেখে কাতারে কাতারে কর্মী-সমর্থক এসে ভরাতে থাকেন মাঠ। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, অনেকের সঙ্গে ছিল ছোট সন্তানরাও। বেলা গড়াতেই 'জয় বাংলা' ও তৃণমূল নেত্রীর সমর্থনে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠতেই উপস্থিত জনতার উল্লাস পৌঁছয় তুঙ্গে। ছোটদের 'দিদি দিদি' চিৎকারে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই হাসিমুখে সাড়া দেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক টানাপড়েন আর প্রশাসনিক কড়াকড়ির সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে রেখে শ্রীরামপুরের মাটিতে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ফের প্রমাণ করল জননেত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বহর।
















