রাজ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ টানতে এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। বণিকসভা বা শিল্প সংস্থাগুলিকে তাদের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য বা ক্ষেত্রভিত্তিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পূর্ণ সুযোগ দিতে চায় নবান্ন। সরকারি জমিতে এই ধরনের শিল্পপার্ক তৈরি করা এবং তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ভার সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলির হাতেই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা থাকবে মূলত জমি ও আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো জোগানোর সহায়ক শক্তি হিসেবে।

শুক্রবার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তিনি জানান, কোনো বিশেষ শিল্পের জন্য কোনো বণিকসভা বা শিল্প সংস্থা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে সরকার প্রয়োজন মতো জমির ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। একই ধরণের শিল্পকে এক ছাতার তলায় এনে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিল্প-পরিবেশ বা ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি করাই এই নতুন মডেলের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি মহলের আশা, এর ফলে জমি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও খরচ—দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো খাতভিত্তিক শিল্প বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা, যাতে দ্রুত বিনিয়োগ আসে এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হয়। এদিনের সভায় সুব্রত গুপ্ত আরও জানান, সার্বিক উৎপাদন ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সংক্রান্ত শিল্পকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে রাজ্য সরকার। শিল্পমহলের সঙ্গে আরও নিবিড় সমন্বয় গড়ে তুলে রাজ্যকে উৎপাদনমুখী শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরাই এই নীতির লক্ষ্য।