রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই বিজেপি যথেচ্ছাচার শুরু করে দিয়েছে। টেন্ডার ছাড়াই বরাত পাইয়ে দিচ্ছে মোদি-রাজ্যের সংস্থাকে। কল্যাণী এইমসে ২৫ বছরের জন্য বিনা টেন্ডারে গুজরাতের সংস্থাকে বিশ্রামাগার নির্মাণের বরাত দেওয়া নিয়ে বিজেপির দুর্নীতির ভাণ্ড ফুটো হয়ে গেল। বিজেপির এই ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বেধেছে তুমুল বিতর্ক।
সম্প্রতি বিনা টেন্ডারেই গুজরাতের একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কল্যাণী এইমসের ২৮ হাজার বর্গফুট সরকারি জমি। সেখানে রোগীর বাড়ির লোকজনের থাকবার জায়গা তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন বিনা টেন্ডারে বিশেষ একটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল বরাত? আবার কোম্পানি আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী যারা অলাভজনক সংস্থা হিসাবে নথিভুক্ত, তাদেরকেই বরাত দেওয়া হয়েছে? কেন? এর নেপথ্যে কী অভিসন্ধি রয়েছে? তবে কি বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতেই এই বরাত? এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে তুমুল শোরগোল পড়েছে কল্যাণীতে। আমেদাবাদের বেসরকারি সংস্থাটি শুধু যে বিনা টেন্ডারেই দায়িত্ব পেয়েছে তা নয়, আগামী ২৫ বছরের জন্য ওই ‘বিশ্রামগৃহ’ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও বর্তেছে তাদের উপর। এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে হাসপাতাল থেকে রাজনৈতিক পরিসরেও। কেন এই ধরনের ভবন বা বাড়ি তৈরির দায়িত্ব টেন্ডার ছাড়া দেওয়া হল? ২৫ বছরের জন্য কেন একটা সংস্থাকেই দায়িত্ব দেওয়া হল? এই অনিয়মের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন চিকিৎসক-কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতৃত্বও। উল্লেখ্য, আমেদাবাদের ওই সংস্থাটিই দেশের আরও চারটি এইমসের দায়িত্বে। কোন জাদুতে তারা দিল্লি থেকে শুরু করে দেওঘর, ভোপাল, নাগপুরের দায়িত্বের পাশাপাশি মুম্বই, পুণে, এখন আবার কল্যাণীর হাসপাতালে বিশ্রামগৃহ করার দায়িত্ব পাচ্ছে গুজরাতের সংস্থা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে। মহারাষ্ট্রে আবার ৪৯ বছরের জন্য কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। গোটা দেশেই স্বজনপোষণ চালাচ্ছে মোদি সরকার।
কল্যাণী এইমসের ‘বিশ্রামগৃহ’ তৈরির জন্য ১৩ জুলাই ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। গুজরাত সরকারের স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছ। চুক্তিপত্রে লেখা, আমেদাবাদের অলাভজনক সংস্থাটি বিশ্রামগৃহের ডিজাইন থেকে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ থেকে নিরাপত্তা, খরচ-আদায় করবে। ২৫ বছরের জন্য এই চুক্তি হল। সেই মেয়াদ পরে বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে। তিনমাসের মধ্যে প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান জমা দিতে হবে। ২ বছরের মধ্যে চালু করতে হবে বিশ্রামগৃহ। চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকারের বিভিন্ন দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ নেই। অর্থাৎ ডাবল ইঞ্জিনে যথেচ্ছারই প্রকাশ পাচ্ছে এখানে। পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সরকার থাকায় গুজরাতের সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দিতে, কেয়ার করছে না রাজ্যের সরকারকে। রাজ্যকে নিজেদের সম্পত্তি ভাবছে স্বৈরাচারী কেন্দ্র।
















