বিরোধীদের সমস্ত আপত্তি সত্ত্বেও বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল বিতর্কিত পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে কার্যত আমলাদের হাতের মুঠোয় ঢুকানোর ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় 'দি ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' বা পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করা হয়। আর এই বিল পাশ করানোর মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের কার্যত ক্ষমতাহীন করে দিল বর্তমান শাসকদল বিজেপি।
বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিধানসভায় পাশ বিতর্কিত পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল
Sponsored

বিধানসভায় এই বিলের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এই বিলের মাধ্যমে প্রধানের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে না, বরং দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা ও কাটমানি খাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর যুক্তি, বিগত এক দশক ধরে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের বিল—সব জায়গাতেই দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়েছিল, আর সেই অচলাবস্থা দূর করতেই এই বিল। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, পঞ্চায়েতের স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং সময়মতো সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই এই সংশোধনীর লক্ষ্য।
বিলের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত তহবিলের অর্থ প্রদান সংক্রান্ত নির্দেশ বা চেকে সই করার ক্ষমতা আর নির্বাচিত প্রধান বা উপ-প্রধানের হাতে থাকছে না। এর পরিবর্তে ওই নির্দেশ এবং চেকে যৌথভাবে সই করবেন এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি। অর্থাৎ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে সমস্ত আর্থিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হলো সরকারি আমলাদের হাতে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রধান এবং উপ-প্রধান ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে এবং জনপরিষেবা ব্যাহত হলে, একজন এক্সটেনশন অফিসারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে ৩০ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এমনকি, প্রধান বা উপ-প্রধানের অনুপস্থিতিতে এই নিযুক্ত প্রশাসক গ্রাম সভার বৈঠকেও সভাপতিত্ব করার ক্ষমতা পাবেন। বিধানসভায় এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী একযোগে এই বিলটিকে সংবিধান বিরোধী আখ্যা দিয়ে ভোটাভুটির দাবি জানান। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিলের পক্ষে পড়েছে ৬৯টি ভোট এবং বিপক্ষে মাত্র ১৩টি, যেখানে ৩২ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস হয়ে যায় এই বিল। দিলীপ ঘোষ বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, গ্রামের শেষ মানুষটির কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই সামান্য সংশোধন।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from রাজ্য
View All →
হাওড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে ছিনতাই লক্ষাধিক টাকার গয়নার ব্যাগ
12h ago

শসা চাষে ভর্তুকি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে জড়িত উচ্চশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব
13h ago

ধর্মতলায় ছাত্র যুবদের আন্দোলনে অশান্তি নিয়ে কড়া বিবৃতি মুখ্যমন্ত্রীর, গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের ঘোষণা
15h ago

সপ্তাহ শেষে কিছুটা স্বস্তি কলকাতায়! কেমন থাকবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া?
16h ago

ধর্মতলার ছাত্র-বিক্ষোভে আক্রান্ত সাংবাদিকরা! হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
1d ago







