এক যুগ পর বিধানসভায় ফিরছে বিভিন্ন দফতরের বাজেট বিতর্কের রেওয়াজ। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই চর্চাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, আলোচনার দিনক্ষণ নির্ধারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। 

আগামী ১৭ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেট নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার সূচি প্রকাশ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আগামী ২০ থেকে ২৪ জুলাই চলবে এই আলোচনা এবং ২৫ জুলাই অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল ও অর্থ বিল পাস হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সূচির মধ্যেই আগামী ২১ জুলাইয়ের দিনটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

সরকারি সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং পরিবহণ দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। ২১ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা এবং শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মেগা বাজেটের বিতর্ক। ২২ জুলাই নজর থাকবে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের (মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব দফতর) আলোচনায়। এরপর ২৩ জুলাই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ, পর্যটন এবং ২৪ জুলাই পুর ও নগরোন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি তথা ‘শহিদ দিবস’ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওই দিন কলকাতার ধর্মতলায় ঘাসফুল শিবিরের মূল নেতৃত্ব ও বিধায়কদের উপস্থিত থাকার কথা। আর ঠিক সেই দিনটিতেই বিধানসভায় শিক্ষা ও শিল্পের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আলোচনা রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এটি নিছক কাকতালীয় নয়। প্রধান বিরোধী দলকে তাদের পূর্বনির্ধারিত দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত রেখে, বিধানসভায় শাসক দল যাতে কোনো বড় বাধা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেটগুলি আলোচনা ও পাস করিয়ে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই হয়তো এই কৌশলগত সূচি সাজানো হয়েছে। 

এই অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ২২ জুলাই স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট বিতর্ক। সাম্প্রতিক গুন্ডা দমন আইন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্য রাজনীতি বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা স্বরাষ্ট্র দফতরের আলোচনায় সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারে এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এই বিতর্কের জবাবে কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। বাকি দফতরগুলির বাজেট অবশ্য প্রথাগত ‘গিলোটিন’ প্রক্রিয়াতেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অধিবেশনে সকলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাকে শাসক দল গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে দাবি করলেও, বিরোধীরা একে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। ফলে, আগামী সপ্তাহের এই বাজেট বিতর্ক যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।