দলের শীর্ষনেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এবার খোদ বিধায়কের কাছেই নিজেদের ভোট ফেরত চাইলেন এক দম্পতি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের প্রদেয় ভোট ফেরত চেয়েছেন সন্দীপ ভট্টাচার্য এবং রূপালী ঘড়ুই ভট্টাচার্য নামে দুই ভোটার। শুধু বিধায়ককেই নয়, ওই চিঠির প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, ওই কেন্দ্রে বিধায়কের পাওয়া মোট ভোট থেকে তাঁদের ভোট দুটি বাদ দিয়ে পুনরায় ভোট গণনা করা হোক। 

স্থানীয় সূত্রের খবর, বিধায়ক নিশীথ মালিকের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে। ওই দম্পতির অভিযোগ, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি ও তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে নির্বাচনের সময় যাঁরা দিন-রাত এক করে বুথ পাহারা দিয়েছিলেন, জেতার পরেই তাঁদের ভুলেছেন বিধায়ক। সাধারণ মানুষ যাঁকে ‘ঘরের ছেলে’ মনে করে বিপুল ভোটে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসতেই তাঁর আসল চেহারা সামনে এসেছে। নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে তিনি দলের নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন এবং গোপনে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে আঁতাত তৈরি করেছেন। 

চিঠিতে ওই দম্পতি স্পষ্ট লিখেছেন, নিশীথ কুমার মালিক যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও আদর্শ মেনে দলে চলছেন না, তাই তাঁর জয় নিশ্চিত করতে দেওয়া ওই প্রদেয় ভোট দুটি আর তাঁর প্রাপ্য হতে পারে না। ফলে তাঁদের ভোট বাদ দিয়েই বর্ধমান উত্তরের ভোট পুনর্গণনা হওয়া উচিত। 

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে উঠেছে বর্ধমানে। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের সাফ বক্তব্য, দলীয় কর্মীদের রক্ত-ঘামে তৈরি সংগঠনে থেকে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন বা কর্মীদের অবমাননা করবেন, রাজনীতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত আস্তাকুঁড়েই গিয়ে ঠেকবে। দলীয় কর্মীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি, আর তাঁদের সঙ্গে এই ধরনের বেইমানি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।