বিয়ের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে বধূর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য। মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী, বয়স ২৫ বছর। জানা গিয়েছে বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ এবং BMW গাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্যে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে স্নেহার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অন্যদিকে, মেয়েকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতার বাবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর শহরের ডাকবাংলো রোড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন স্নেহা। তাঁর বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী কলকাতা পুলিশের লালবাজারে কর্মরত। জানা গিয়েছে, যমুনাবালির বাসিন্দা রণদীপ জানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল স্নেহার। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের সময় জামাইয়ের দাবি মেনে যৌতুক দিয়েছিলেন স্নেহার বাবা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রণদীপের চাহিদা বাড়তে থাকে।অভিযোগ, সম্প্রতি বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য স্নেহার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি BMW গাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। এই ঘটনায় রণদীপের বন্ধু বশারের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার। তাঁদের দাবি, গত শুক্রবার রাতে রণদীপ ও তাঁর বন্ধু বশার স্নেহাকে মারধর করেন।এরপর শনিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় স্নেহার দেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

অন্যদিকে, স্নেহার বাবা কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অর্থের লোভেই মেয়েকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, রণদীপের মেজাজ খারাপ ছিল এবং তিনি প্রায়ই স্নেহাকে মারধর করতেন। সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় এর আগে একাধিকবার বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁদের। সম্প্রতি গাড়ির ডেলিভারিকে কেন্দ্র করে অশান্তি আরও বেড়েছিল বলে অভিযোগ। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রণদীপ জানা-সহ শ্বশুরবাড়ির মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে স্নেহার মৃত্যু খুন, নাকি আত্মহত্যা—তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।