পুজোর উপহার দিতে গিয়ে নন্দীগ্রামবাসীদের সুখবর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘোষণা করলেন, নন্দীগ্রামে দ্রুত রেল লাইন কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে নন্দীগ্রামের (Nandigram) জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। রবিবার রেল যোগাযোগ থেকে সেতু নির্মাণ, হাসপাতালের পরিষেবা বৃদ্ধি থেকে আবাস যোজনা—একাধিক ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে এদিন নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের হাতে তুলে দেন পুজোর উপহার।
আরও পড়ুন: নাগা ও কুকি সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর
নন্দীগ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলাকার উন্নয়নে তাঁর একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দীগ্রামে দ্রুত রেল লাইন কার্যকর করা। হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতু নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী পর্যায়ে তেরপেখিয়া-নন্দীগ্রাম সংযোগের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হবে। পাশাপাশি উড়িশা কোস্ট ক্যানেল সংস্কারের কাজও দ্রুত শেষ হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, মহেশপুর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসক-সহ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নন্দীগ্রামে ভর্তুকিমূল্যে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। সেইসঙ্গে রেয়াপাড়ার বিপিএড কলেজের মানোন্নয়নের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবাসন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও একাধিক আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের ১৭ হাজার পরিবারকে দ্রুত আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এলাকার ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জবকার্ডধারীদের ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর ঘোষণায় উঠে আসে। অন্নপূর্ণা যোজনায় বর্তমানে ৭০ হাজার ৩০০ জন সুবিধা পাচ্ছেন। যাঁরা এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষিত বেকারদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, হাতের কাজ জানা মানুষদের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামের বৈষ্ণব সমাজের যাঁরা মৃদঙ্গ, খোল ও খঞ্জনি বাজান, তাঁদেরও লোকপ্রসার শিল্পী ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়নেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় থাকা গ্রামের বাকি রাস্তাগুলি ঢালাই কংক্রিটের করার পাশাপাশি কাঠের সেতুগুলিকে পর্যায়ক্রমে পাকা সেতুতে পরিণত করার আশ্বাস দেন তিনি। যেসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখনও ভাড়া বাড়িতে চলছে, সেগুলির জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণের কথাও জানান।
শুভেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামের প্রতিটি এলাকা ধরে ধরে উন্নয়নের কাজ করা হবে। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি ও সংকল্পের কথা জানিয়েছিলেন, সেগুলি পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। এ দিন পঞ্চায়েত পরিচালনা নিয়েও দলীয় কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঔদ্ধত্য ও অহংকার এড়িয়ে সাধারণ মানুষ এবং দলের কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আচরণ ও কাজকর্মে যেন মানুষের অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।















