হার্নিয়ার (Hernia) অস্ত্রোপচার করতে গিয়েই বিরল শারীরিক গঠনের সন্ধান মিলল। যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু (Uterus) ও ডিম্বনালি (Fallopian Tube)! এমন বিরল দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, ওই যুবকের শরীরে অণ্ডকোষও (Scrotum) খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি চিকিৎসকদের। ঘটনাটি ঘিরে গোটা চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

আরও পড়ুন: নবান্নের কাছে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার! ঘনাচ্ছে রহস্য

বজবজের বাসিন্দা ওই যুবক গত সোমবার চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ড হারবারের একটি নার্সিংহোমে যান। হার্নিয়ার সমস্যার জন্য পরদিনই তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালীন সামনে আসে এমন কিছু, যা চিকিৎসকদের কাছেও রীতিমতো অপ্রত্যাশিত। পুরুষের শরীরে যে জরায়ু ও ডিম্বনালি রয়েছে, তা দেখে বিস্মিত হন তাঁরা। ওই যুবকের শারীরিক গঠন ও ক্রোমোজোমের প্রকৃতি বুঝতে বিশেষ পরীক্ষার কথা ভাবছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: তন্ত্রসাধনার জন্য নিজের নাতিকে খুন! পুরুলিয়ায় গ্রেফতার প্রৌঢ়

কীভাবে সম্ভব এমনটা! চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা, মানুষের যৌনাঙ্গের বাহ্যিক গঠন, প্রজনন অঙ্গ এবং ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য সব ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। ভ্রূণের বিকাশের সময় কোনও অস্বাভাবিকতার কারণে এমন শারীরিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জরায়ুতে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। অন্যদিকে, ডিম্বনালির মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বাণু জরায়ুর দিকে যায়। সাধারণত নারীদেহে থাকা এই দুই অঙ্গের উপস্থিতি পুরুষের শরীরে অত্যন্ত বিরল।

অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এইচ জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি স্পষ্ট করতে ক্রোমোজোম পরীক্ষা করার কথা ভাবা হচ্ছে। ওই যুবকের শরীরে অণ্ডকোষ রয়েছে কি না, তা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের দাবি, অণ্ডকোষের উপস্থিতি মেলেনি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌন বিকাশের এমন কিছু অস্বাভাবিক অবস্থাকে বিভিন্ন নির্দিষ্ট নামে চিহ্নিত করা হয়। তবে শুধু জরায়ু ও ডিম্বনালির উপস্থিতি দেখেই কোনও ব্যক্তির জিনগত বা যৌন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তার জন্য প্রয়োজন বিস্তারিত পরীক্ষা।

এমন ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেও এক যুবকের শরীরে জরায়ু ও ডিম্বনালির সন্ধান মিলেছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রোগীর মানসিক অবস্থার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হয়। তারপর রোগীর নির্দিষ্ট শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়। বজবজের এই যুবকের ক্ষেত্রেও এখন নজর বিস্তারিত পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টই তাঁর শারীরিক গঠন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।