গেরুয়া রংকে ঘিরে বিজেপির রাজনীতি নিয়ে নিশানা করলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ‘জাগোবাংলা’র শারদীয়া উৎসব সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গেরুয়া যদি হিন্দুদের আবেগ ও অহংকারের প্রতীক হয়, তা হলে সেই রংকে ফুটপাতে নামিয়ে আনা হচ্ছে কেন? যেখানে শুভেন্দু অধিকারী বসেন, সেই চেয়ারে গেরুয়া রঙের তোয়ালে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিষেকের কথায়, গেরুয়া রংকে মাথার উপরে সম্মানের সঙ্গে রাখা উচিত। স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, “গেরুয়া রং স্বামী বিবেকানন্দের উপর মানায়, ধর্ষক-খুনিদের উপর নয়।” ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: অনুপম-রূপমের ‘দিল্লি চলো’ পোস্ট ঘিরে তোলপাড়! রাজনীতির রং নাকি লুকিয়ে অন্য চমক?

দুর্গাপুজোর আবহ ও কলকাতার উৎসবের পরিবেশ নিয়েও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন অভিষেক। মহালয়ার দিন ভোরে কলকাতায় পৌঁছনোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শহরে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) চেনা আমেজ খুঁজে পাননি। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার আলো, উৎসবের উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য যেন হারিয়ে গিয়েছে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বাংলার মানুষকে এমন নিরানন্দ দুর্গাপুজো কাটাতে হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, মানুষ কেন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারছেন না, সেই প্রশ্ন তুলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি।

‘জাগোবাংলা’র শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠান ঘিরে অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগও করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। প্রথমে হাই কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবলেও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর আইনি প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে বুঝে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মস্থানে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার এই লড়াই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

আরও পড়ুন: ‘জাগোবাংলা’র উৎসব সংখ্যা প্রকাশ: কেন্দ্রকে তোপ শোভনদেবের, সৌগতের বার্তা নতুন প্রজন্মকে

কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ও লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহযোগিতা ছাড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রায় আড়াই কোটি মহিলাকে পাঁচ বছর ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের দাবি করেও বিজেপি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাফল্যের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি বলে কটাক্ষ করেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সহায়তা থাকা সত্ত্বেও দেড় কোটি মহিলার কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি পিছিয়ে রয়েছে। ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষের মন জয় করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দের বাংলায় মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, অতীতে মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা রাজনৈতিক শিবিরই আজ বাঙালিকে দুর্গাপুজো শেখানোর চেষ্টা করছে। গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে তাঁর আক্রমণ থেকে শুরু করে রাজ্যের উৎসবের পরিবেশ, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা এবং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান সব মিলিয়ে ‘জাগো বাংলা’র শারদীয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।