সিজেপি-র আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার, সাউথ অ্যাভিনিউ-এর বাড়ির সামনে বাসস্ট্যান্ডের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানরত মমতাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে নামলেই সরকার এত ভয় পাচ্ছে কেন? ধরেই নিলাম, মানুষ আপনাদের সমর্থন করেছে এবং তাদের ভোটে আপনারা জিতেছেন। তাহলে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার কী দরকার?“

অভিষেকের অভিযোগ, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও আপনারা মেট্রো স্টেশন, রেল স্টেশন এবং বিমানবন্দর বন্ধ করে দিচ্ছেন। আগে আমরা দেখতাম, প্রতিবাদীরা রেল অবরোধ বা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতেন। আর এখন সাধারণ মানুষ যাতে প্রতিবাদে যোগ দিতে না পারেন, তার জন্য সরকার নিজেই এই ধরনের বাধা তৈরি করছে।“ 

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে অভিষেক বলেন, “প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক মানুষের আছে। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান করার বদলে পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, এমনকি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী নামিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা হচ্ছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ মোকাবিলার জন্য যে বাহিনী মোতায়েন করা হয়, তাদেরও এখন এই পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সব বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু মানুষের এই দুর্ভোগের দায় কে নেবে?“ 
আরও পড়ুন: দলনেত্রী গ্রেফতার হতেই পথে প্রতিবাদ তৃণমূল বিধায়ক কুণালের

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তোলেন, “দেশের মানুষ যখন প্রতিবাদে সরব, তখন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে সরকার এত মরিয়া কেন? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করছেন। কারণ, জ্ঞানেশ কুমার গ্রেফতার হলে অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকেও তার ফল ভোগ করতে হতে পারে। তাঁদের অনেককেই জেলে যেতে হতে পারে। সেই কারণেই যে কোনও মূল্যে জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।“

অভিষেকের কথায়, “এই পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট যে সরকার ক্রমশ মানুষকে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু কোনও সরকারই চিরকাল মানুষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। দেশের নানা প্রান্তে যে প্রতিবাদের আওয়াজ উঠছে, তাকে অনির্দিষ্টকাল ধরে চেপে রাখা যাবে না। শেষ পর্যন্ত মানুষের শক্তিরই জয় হবে।“