রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠিক কতটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তা নিয়ে এবার সরব হলেন খোদ বিজেপি (BJP) বিধায়ক। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে কলকাতার (Kolkata) এক হাসপাতাল (Hospital) থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেও মিলছে না বেড। সেই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজেরই দলের সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় (Chitta Mukherjee)। বিধায়কের অভিযোগ, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি জনপ্রতিনিধি হয়েও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না তিনি।
বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভের কথা জানান চিত্ত। বিধায়কের কথায়, জটিল রোগে আক্রান্ত কাউকে কলকাতায় নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতেই অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। জেলার মানুষের এই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
আরও পড়ুন: আড়াইশো টার্গেট দিয়েও ক্যারিবিয়ানদের কাছে হার, বোলারদের দোষ ঢাকতে পিচ নিয়ে ক্ষোভ গম্ভীরের
বিধায়কের এই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। কারণ, হাসপাতালগুলিতে রোগী হয়রানি বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সরকার। গত ৯ জুলাই স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম’-এর কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলার হাসপাতাল থেকে অপ্রয়োজনে রোগীদের কলকাতায় পাঠানোর প্রবণতা কমানোই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। স্বাস্থ্য ভবনের বক্তব্য ছিল, কোন পরিস্থিতিতে রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, তার উপর নজর রাখা হবে। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকাও জারি হয়েছে।
কিন্তু শুধু রোগীকে কলকাতায় পাঠানো নয়, হাসপাতালে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রেও একাধিক সমস্যার কথা সামনে এনেছেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার সরকারি হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে রোগীর পরিবারের সদস্যেরা তাঁকে ফোন করছেন। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দফতরেও ফোন করে সাড়া মিলছে না বলে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন বিধায়ক।
এখানেই শেষ নয়। সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি করাতে ‘দালাল’-দের সাহায্য নেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর পোস্টে। পোস্টে তিনি জানিয়েছেন , কলকাতায় গিয়ে অসহায় রোগীদের ভর্তি করাতে সাহায্য করতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত একাধিক বার পোস্টটি এডিট করেন তিনি। পরে ‘দালাল’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসহায় মানুষের জন্য ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবেন, এমন সহৃদয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা লেখেন।
বিধায়কের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা চলছে বলে খবর। তবে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি বিধায়ক চিত্ত। তাঁর দাবি, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং প্রভাবশালী বিধায়কদের বিষয়টি জানা প্রয়োজন। দল তাঁকে ভর্ৎসনা করলেও আপত্তি নেই, কিন্তু এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য এভাবে ছোটাছুটি করতে হলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়।















