রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ। কিন্তু তার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গির সংক্রমণ (Dengue Case)। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৭৭।
স্বাস্থ্য দফতরের (West Bengal Health Department) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে সক্রিয় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২০২। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চলতি বছরে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪ জনের। এর মধ্যে অক্টোবর মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন। ফলে দুর্গোৎসবের মরসুমে ডেঙ্গির সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে সংক্রমণের ছবি। আক্রান্তের নিরিখে মুর্শিদাবাদে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮। কলকাতায় ২৮, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭, হুগলিতে ১৩ এবং হাওড়ায় ১০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা পুরসভার ৭৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মশার বংশবিস্তার রুখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ৯ হাজার ৪০০-র বেশি মানুষ ফিভার ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯২ জনের শরীরে জ্বরের উপসর্গ মিলেছে। স্বাস্থ্য দফতরের আশঙ্কা, ডেঙ্গির সংক্রমণের মরসুম এখনও শেষ হয়নি। আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং এল নিনোর প্রভাবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাস্থ্য দফতর নিজেই জানাচ্ছে যে ডেঙ্গি সংক্রমণের মরসুম এখনও শেষ হয়নি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই বিপদ থাকতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কোথায়?















