"ভারতের গণতন্ত্র আজ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে!" জাগোবাংলার (JagoBangla) উৎসব সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে এমনটাই মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। শনিবার দিল্লিতে সাউথ অ্যাভিনিউ-এর বাড়ির সামনে বাস স্ট্যান্ডের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানরত বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এই ঘটনা নিয়ে এদিন বক্তব্যের শুরুতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা।
আরও পড়ুন: জাগোবাংলার জয় হোক: গণতন্ত্র বাঁচানোর আন্দোলনে দিল্লি থেকে বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
শোভনদেবের কথায়, "দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে ভারতের গণতন্ত্র কোন পর্যায় পৌঁছিয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এতটা ভয় পেয়ে গেছে যে সবাইকে কর্মসূচিতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আটকে দেওয়া হচ্ছে। আজ আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মাত্র পাঁচ জন মিলে বসে ছিলেন। ৫ জন সাংসদ চুপ চাপ বসেছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিলেন। কিন্তু আচমকাই দিল্লি পুলিশ তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।" সেইসঙ্গে এদিন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP)- র তিন নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সেইপ্রসঙ্গে শোভনদেব বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার কতটা ভয় পেয়েছে নতুন প্রজন্মকে। এটাকে স্বৈরাচারী শাসকের পদক্ষেপ বলা যায়। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Ray)। মা দুর্গার কাছে শক্তি প্রার্থনা করে তিনি বলেন, “বাংলার উপর চেপে বসা শাসনকে উৎখাত করার লড়াই সহজ নয়। বিপুল অর্থ ও ক্ষমতার ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রকাশ্যেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক মুছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না।”
সেইসঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী সৌগত। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দল থেকে কিছু পাননি, তাঁরাও তৃণমূল ছেড়ে যাচ্ছেন না। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই আগামী দিনের নেতা। তাঁর পাশে থাকার আশ্বাসও দেন সৌগত। তাঁর কথায়, “অভিষেকই আগামীর আশ্বাস।” জাগোবাংলার উৎসব সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কুণাল ঘোষ-সহ দলের একাধিক নেতা।















