এ কেমন দাদু! তন্ত্র সাধনার জন্য নিজের নাতিকেই করলেন খুন (Murder)। দাদুর বিরুদ্ধে উঠেছে এমনই অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার (Purulia) বাঘমুন্ডিতে। বাড়ির কাছের একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় ওই শিশুটির দেহ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তার ঠাকুরদা রাজেন্দ্রনাথ প্রামাণিককে। তন্ত্রসাধনার জন্য শিশুটিকে খুন (Child Murder) করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: রিয়াধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত ১২! সৌদির পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা ভারতের
ঘটনাটি গত ২৯ সেপ্টেম্বরের। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতে সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন শিশুটির মা লক্ষ্মী প্রামাণিক। বাড়িতে কিছুটা দূরে শুয়েছিলেন দাদু রাজেন্দ্রনাথ। ভোররাত প্রায় চারটে নাগাদ তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গোয়ালঘরের দিকে যান। এর কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙলে লক্ষ্মী দেখেন, বিছানায় নেই তাঁর সন্তান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান মেলেনি। এরপর এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাড়ির কাছেই একটি বাঁধানো কুয়ো থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে বাঘমুন্ডির পাথরডি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জীবিত অবস্থাতেই শিশুটিকে কুয়োয় ফেলা হয়েছিল বলে খবর। প্রথমে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেশী যুবক ফুলচাঁদ প্রামাণিককে গ্রেফতার (Arrest) করে পুলিশ। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তে সাহায্যের জন্য আনা হয় স্নিফার ডগও। পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় কুকুরটি বারবার শিশুটির ঠাকুরদা রাজেন্দ্রনাথের দিকে ইঙ্গিত করে। এরপরই তাঁর উপর সন্দেহ বাড়ে তদন্তকারীদের।
পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু অসঙ্গতি পায় পুলিশ। রাজেন্দ্রনাথের ঘর থেকে একটি বিশেষ যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের অনুমান, সেটি তন্ত্রসাধনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে তন্ত্রসাধনার চল রয়েছে। তদন্তে সামনে আসে, ওই পরিবারে আগেও একাধিক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তন্ত্রসাধনার কারণেই শিশুটিকে কুয়োয় ফেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় রাজেন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শিশুটির ঠাকুমা-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সত্যিই কি তন্ত্রসাধনার নামে প্রাণ গেল শিশুটির? নিজের নাতির মৃত্যুর পিছনে কি জড়িত তারই ঠাকুরদা? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবশ্য তন্ত্রসাধনার যোগ বা খুনের অভিযোগকে নিশ্চিত বলে মনে করা যাচ্ছে না। এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।















