নদিয়ার ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় এ বার চরম বিষাদের ছায়া। বহু শতাব্দী প্রাচীন রাজবাড়ির বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সিঁদুর খেলা বন্ধ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘রানিমা’ অমৃতা রায়। বিজয়া দশমীতে রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় রানিমা আর অংশ নেবেন না। তবে ভবিষ্যতে ছেলে বিয়ে করলে এবং সে চাইলে এই প্রথা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন অমৃতা।
আরও পড়ুন: “আমি মনীষাকে ভীষণ মিস করি।” রুপোলি পর্দায় বাবা-মেয়ে, বাস্তবে গভীর প্রেম!
গত মার্চ মাসে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির রাজা সৌমীশচন্দ্র রায়ের প্রয়াণ ঘটে। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই রাজপরিবারে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। হিন্দু শাস্ত্রীয় ও পারিবারিক নিয়ম মেনে, রাজবধূ তথা রানিমা অমৃতা রায় এ বছর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে পারবেন না। যেহেতু বংশানুক্রমিকভাবে রানিমার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই সিঁদুর খেলা পরিচালিত হয়ে আসছিল, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে এই প্রথাকে চিরতরে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোদি ভারতের লজ্জা! দেশের অঘোষিত 'জরুরি অবস্থা' নিয়ে বিস্ফোরক আশুতোষ- সৌরভরা
রানিমা অমৃতা রায় জানান যে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে নিয়তির বিধানকে মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রানিমার অংশগ্রহণে রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে যে সিঁদুর খেলা চলত, তা এ বার থেকে আর হবে না। অবশ্য তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর পুত্র বিবাহ করলে, নতুন রাজবধূর ইচ্ছায় এই প্রথা পুনরায় চালু হতেও পারে।
আরও পড়ুন: "হিন্দু দোকানের বিরিয়ানি খান": শিলিগুড়িতে পোস্টার ঘিরে শোরগোল
সিঁদুর খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রাজবাড়ির পুজোর জৌলুস বা উৎসবের আমেজ কিছুটা কমলেও, ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক রীতিনীতিতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। রাজবাড়ির নিয়ম অনুযায়ী, মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকেই হোমকুণ্ডে অগ্নি প্রজ্বলন করা হয়েছে, যা নিয়ম মেনে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে। এছাড়াও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো হবে। মায়ের ভোগেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সাত রকম ভাজা ও অন্নভোগের পাশাপাশি নবমীর দিন প্রচলিত রীতি মেনে দেবী দুর্গাকে মাছের মুখ দেখানো হবে। পাশাপাশি কুমড়ো বলি-সহ রাজবাড়ির নির্দিষ্ট বলির আচারও সম্পন্ন হবে। সাধারণ মানুষের জন্য রাজবাড়ির দরজা খোলা থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। রানিমা বলেন, “সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। রাজবাড়িকে নিজের মনে করে পুজোয় আসুন।”
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে শিয়ালদহে AIDSO- র মিছিল, ভগবানপুরে আক্রান্ত SUCI
বিগত বছরগুলিতে দশমীর দিন রাজবাড়ির সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। তবে এ বছর থেকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোর এই রঙিন অধ্যায়টি প্রথাগতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুজোপ্রেমীদের মনেও মনখারাপের সুর।















