চিকিৎসক স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসক স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করে আদালত।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার হেলেঞ্চা মণ্ডবঘাটার বাসিন্দা চিকিৎসক অরিন্দম বালার সঙ্গে ২০২১ সালে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রত্নতমা দে র বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অরিন্দম বালা ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী রত্নতমাকে কুপিয়ে খুন করেন। পরদিন, ২০ আগস্ট রত্নতমার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অরিন্দম বালাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বাবা বিবেকানন্দ বালা এবং ভাই অনির্বাণ বালার বিরুদ্ধেও বধূ নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।
গ্রেফতারের পর থেকেই অরিন্দম বালা বিচারাধীন অবস্থায় জেল হেফাজতে ছিলেন। মামলার শুনানির সময় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে গত ২২ জুলাই আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপর বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই সাজা ঘোষণা করে আদালত। বিচারক অরিন্দম বালাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে নিহত রত্নতমার বাবা রাজীব কুমার দে বলেন, "আমাদের মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না। অরিন্দম আমাদের পরিবারেরই একজন ছিল। কিন্তু সে তার কর্মফল পেয়েছে। আমরা ওর মৃত্যুদণ্ড চাইনি। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।" তাঁর স্ত্রীও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
















