কলকাতার ডোরিনা ক্রসিং যেন যন্ত্রর মন্তর চত্বর! বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিলে রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর। শুক্রবার বিকেলে ককরোচ জনতা পার্টি এবং এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-র মতো একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে মিছিলে দফায় দফায় উত্তেজনা। সেখানে চটি, জুতো, বোতল, লাঠি ছোড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের রুখতে মরিয়া চেষ্টা পুলিশকর্মীদের। পুলিশ ছাত্র-যুব আন্দোলনকারীদের জল কামান ছাড়া হয়। মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল।
মিছিলটি ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছতেই পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। শুরু হয় পুলিশ-পড়ুয়া সংঘর্ষ। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ধর্মতলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) নামানো হয়। আন্দোলনকারীদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে হটিয়ে দিতে লাঠি হাতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় পুলিশকে। যদিও পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গোলমাল সামলাতেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। তবে রানি রাসমণিতে আপাতত অবস্থান বিক্ষোভ দেখাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রীয় ও আধা সামরিক বাহিনী ঘিরে রেখেছে গোটা এলাকা। সংযোগ রুখতে ঘটনাস্থলে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। সংঘর্ষের জেরে অনেক মহিলা সাংবাদিক আহত হয়েছে বলে খবর।
শুক্রবারের এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি একটাই, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে এমন উপচে পড়া ভিড় হবে তা কল্পনাই করতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন। এর আগে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলি আন্দোলনের ডাক দিলেও তার অনুমতি মেলেনি। কিন্তু এদিনের বামদের ডাকা এই বিশাল মিছিলে সব মিলে মিশে এক হতে দেখা যায়।
















