ছাত্র আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। আর তারপরেই দেশের তিন জায়গায় উপনির্বাচনে ২টিতেই ঝরে গেল পদ্ম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিহারের (Bihar) বাঁকিপুরে উপনির্বাচনের ফল (Bankipur Bypoll Result)। সেখানে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই জয়ের পথে ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। বিজেপির তিনদশকের আসন কেড়ে নিলেন পিকে। মধ্যপ্রদেশের দতিয়া আসনটি কংগ্রেসের দখলে। শুধু গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনটি রয়েছে বিজেপি-র হাতেই। সোমবার এই ট্রেন্ড নিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, পদ্মের পতন শুরু। এখন যেখানেই ভোট হবে, সেখানেই বিজেপি ও তার  জোটসঙ্গীরা পরাজিত হবে।  

এদিন কার্যত জোড়া ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে। ভোটকুশলীর ভূমিকা থেকে সরে এসে দল গড়লেও বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হননি প্রশান্ত কিশোর। সেই হিসেবে বাঁকিপুরের উপনির্বাচনেই প্রার্থী হিসেবে তাঁর অভিষেক। ১৯৯৫ থেকে গত ৩০ বছর ধরে ওই আসনটি বিজেপি-র দখলে ছিল। নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পর তাঁর ছেলে নীতিন নবীন আসনটি ধরে রেখেছিলেন। ২০২৫ সেখানে ৬২.৬৬ শতাংশ ভোট পান তিনি। সেই আসনে থেকে প্রায় ৩৫ বছরের বিজেপি শাসন উপড়ে জয় পাচ্ছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচন বাঁকিপুর আসনে জয়ী হন বিজেপি-র নীতিন নবীন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্যসভায় চলে গিয়েছেন তিনি। সেখানে শেষ পাওয়া খবরে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে জিতেছেন পি কে। 

সংবাদ মাধ্যমে প্রশান্ত কিশোর বলেন, "বিহারের মানুষ স্পষ্টভাবেই সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট... বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি এমন একজনকে বিহারের নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছিল, যার মধ্যে অপরাধপ্রবণতা রয়েছে এবং যার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ। বিহারের মানুষের কাছে এ ধরনের নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য নয়।" 

অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) দতিয়ায় কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংও হারিয়েছেন বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারিকে। ৬ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপি পরাস্ত হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ী আদালতের রায়ে একটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই আসনটি শূন্য হয়েছিল। 

শুধু গুজরাটের (Gujrat) মঞ্জলপুরে আসনটি হাতে রেখেছে বিজেপি (BJP)। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোট পেলে এবার সেই ভোট নেমেছে ৬৭ শতাংশে। উল্টোদিকে কংগ্রেসের ভোট ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ শতাংশ। 

এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) জানান, যেখানে এখন ভোট হবে মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবে। ডবল ইঞ্জিনের মধ্যপ্রদেশ, বিহারে বিজেপি হেরেছে। বিহারের বাঁকিপুরে তিরিশ বছর ধরে বিজেপি জিতছে। ওই আসনে সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কেন্দ্রেই হেরেছে বিজেপি। এটাতেই বোঝা যায়, এখন দেশের যেখানেই নির্বাচন হবে বিজেপি ও তাদের সহযোগীরা হারবে।