রাজ্যের কর ব্যবস্থা, বিশেষ করে পেশাদারি কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও চাকরিজীবীদের ওপর কি দ্বৈত করের বোঝা চাপছে? শনিবার বিধানসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। একইসঙ্গে ছোটখাটো কর-অপরাধের ক্ষেত্রে জেলের সংস্থান নিয়েও সরব হন তিনি। 

সম্প্রতি বিধানসভায় অর্থ সংক্রান্ত এক বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের কর ব্যবস্থার কয়েকটি দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর তোলা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সভায় কর ব্যবস্থার বর্তমান চিত্রটি তুলে ধরেন বিভাগীয় মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এদিন, মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রথমত, রাজ্যে সত্যিই দ্বৈত কর বা ডাবল ট্যাক্সেশন নেওয়া হচ্ছে কি না। বিশেষত যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থা বা আইটি কোম্পানির সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের বাইরে, কিন্তু তাদের কর্মীরা এ-রাজ্যে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ডাবল ট্যাক্সেশন যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি বিষয়। দ্বিতীয়ত, কর সংক্রান্ত ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমান আইনে যে জেলের সংস্থান রয়েছে, সেই প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। 

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেন যে রাজ্যে কোনওভাবেই দ্বৈত কর নেওয়া হচ্ছে না। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মী পশ্চিমবঙ্গে কাজ করলে তাঁর প্রফেশনাল ট্যাক্স সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাতায় জমা পড়বে। এর পাশাপাশি ‘জেল প্রভিশন’-এর কথা মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে তা তুলে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। 

বেসরকারি কর্মী, বিশেষ করে ভিন রাজ্যের আইটি সংস্থায় কর্মরত এ-রাজ্যের বাসিন্দাদের করের নিয়ম নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তোলা প্রশ্নে বিধানসভার অন্দরে তা অনেকটাই স্পষ্ট হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।