এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের (Encrypted Messaging App) আড়ালে চলছিল যোগাযোগ, সেখানেই তৈরি হচ্ছিল অপরাধের নকশা। বর্ধমান থেকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিষিদ্ধ ‘Element X’ অ্যাপ ব্যবহার করে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এই চক্র। একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া অর্পিতা সরকারকে ব্যবহার করা হতো ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে, আর প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করেই সাজানো হচ্ছিল একাধিক অপরাধমূলক পরিকল্পনা। 

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিম ও অর্পিতা (Hamim and Arpita) প্রথমদিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখলেও পরে তারা সম্পূর্ণভাবে ভরসা করে ‘Element X’ অ্যাপের উপর। ম্যাট্রিক্স-ভিত্তিক এই এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মে  হওয়া মেসেজ সহজে নজরদারির আওতায় আনা যায় না বলেই মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। এসটিএফ সূত্রের খবর, সম্ভাব্য টার্গেট বাছাই থেকে শুরু করে কোথায়, কীভাবে অভিযান চালানো হবে। সব ধরনের পরিকল্পনাই এই অ্যাপের মাধ্যমে করা হতো।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিমের ব্যবহৃত ইউজারনেম (Username) ছিল "unknowngunman333:matrix.org"। তার যোগাযোগের তালিকায় থাকা আবিদ-সহ একাধিক ব্যক্তির ইউজারনেমেও ‘333’ সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই সংখ্যার যোগসূত্র পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির অনলাইন পরিচয়ের সঙ্গে রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই গোটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের দাবি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ফটোগ্রাফির কাজের সূত্র ধরে তিনি বিভিন্ন ভিভিআইপি-র কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৩ সালে কেন্দ্র যে ১৪টি মেসেজিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল, তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী ‘Element’-ও সেই তালিকায় ছিল। গোয়েন্দাদের অভিযোগ ছিল, এই ধরনের এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই জঙ্গি সংগঠন ও তাদের সহযোগীরা সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখত।