দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’-র স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে জাতীয় স্তরের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দিল্লির তরফে মৌখিক সবুজ সংকেত মিলেছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর নবান্নের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং পর্যটন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দিল্লিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত পূর্বেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার চিঠি পাঠিয়ে পুণ্যার্থীদের সুবিধা এবং বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বার্থে গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’-র স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে আইনি বা পরিকাঠামোগত কোনও বড় বাধা না থাকলেও, এতদিন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলেই ছিল। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে স্বভাবতই আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক সংকীর্ণতাকেই প্রমাণ করে। তাদের অভিযোগ, বিরোধী শাসিত রাজ্য হওয়ার কারণে এতদিন বাংলাকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
রাজনীতির আঙিনা পেরিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার এই সম্ভাব্য জাতীয় স্বীকৃতি অবশ্য পুণ্যার্থী এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় মেলার মর্যাদা পেলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ মিলবে। রাজনৈতিক তরজা বজায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বাংলার এই ঐতিহাসিক মেলা তার যোগ্য সম্মান পেতে চলায় আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
















