এসআইআর (SIR) ঘিরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অন্দরে মতপার্থক্যের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। এই আবহে বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, “এসআইআর নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একার সিদ্ধান্ত নয়। তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর ‘মৃত্যুকামনা’! হুমায়ুনের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টাও শুরু হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মমতার সঙ্গে তাঁর ফোনে কথাও হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা হয়েছে তৃণমূল নেত্রীর। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে যৌথ কর্মসূচি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই মূলত তাঁর আপত্তি। বিরোধীদের বক্তব্য, কমিশনের অন্দরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবি দেখিয়ে তাঁর দাবি, “এসআইআর কোনও এক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ছিল না। তিন কমিশনারের সম্মতিতেই প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে।” সেইসঙ্গে এসআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নিয়েও সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, "পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার দায় বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের নয়। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং পরবর্তী পর্যায়ে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ার পরই বহু নাম বাদ পড়েছে। এরসঙ্গে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কোন যোগ নেই।”
শুধু এসআইআর নয়, তৃণমূল ও সিপিএমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। এম এ বেবির চিঠি এবং মমতার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তৃণমূল ও বামেদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। শুভেন্দুর কথায়, “একসময় যে তৃণমূল সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই তৃণমূলের সঙ্গে এখন সিপিএমের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।”

এর পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল টেনেও বিরোধীদের নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “বিজেপির জয় মেনে নিতে না পেরেই একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থা এবং এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জনগণের রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।” তবে শুভেন্দুর বক্তব্যের মাঝেও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা প্রশ্নটি এখনও রয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আদৌ কতটা মতপার্থক্য ছিল এবং তা এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করেছিল?