নন্দীগ্রামে (Nandigram) পুকুর থেকে উদ্ধার ৭০ বছরের বৃদ্ধার দেহ। ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। মৃতার হাত-পা ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত খুন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।

আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা পাক রণতরীর! অপেশাদার বলে তুলোধনা নয়াদিল্লির

মৃতার নাম কানন সামন্ত। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাত ৮টার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে আশপাশে খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি। বুধবার সকালে ফের তল্লাশি শুরু করেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। তখনই বাড়ির কাছের একটি পুকুরে কাননের দেহ ভাসতে দেখা যায়। দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের নজরে আসে, কাননের হাত ও পা ইট দিয়ে বাঁধা রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ ভাবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কারও পুকুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। তাঁদের আশঙ্কা, বৃদ্ধাকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য। কাননের স্বামী প্রভাংশু সামন্তের বয়স ৮০ বছর। তিনি তাঁর দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ওই দুই বধূর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: বদলেছে সরকার, বদলায়নি কলেজের ছবি! পরিচালন সমিতিতে বিজেপি হেভিওয়েট নেতাদের ভিড়

কাননের ভাই নারায়ণ সামন্তের অভিযোগ, বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ব্যবহার করা হত। তাঁর দাবি, দুই পুত্রবধূ তাঁদের ঠিকমতো খেতে দিতেন না। মঙ্গলবারও প্রতিদিনের মতো পাশের বাড়িতে টিভি দেখতে গিয়েছিলেন কানন। রাত ৮টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এদিকে খবর পেয়ে বাড়িতে ফেরেন কাননের বড় ছেলে ভীম সামন্ত। মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি পুলিশ। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। কাননের ছোট ছেলে অর্জুন সামন্তেরও এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ দুই পুত্রবধূ ও ছোট ছেলের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়েছে নন্দীগ্রামের ওই এলাকায়।