শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব কমানোর কথা বলা হলেও কলেজ পরিচালন সমিতির নতুন নিয়োগে সামনে এল অন্য ছবি। প্রথম দফায় ২৪৭টি কলেজের পর দ্বিতীয় দফায় আরও ১৭১টি কলেজের পরিচালন সমিতি বা জেনারেল বডির সভাপতি (President of the College Governing Body or General Body) নিয়োগ করল রাজ্য। আর সেই তালিকায় বিজেপির একাধিক নেতা, নেত্রী, সাংগঠনিক পদাধিকারী এবং দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নাম থাকায় শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কলেজ বাদে রাজ্যের প্রায় সাড়ে চারশো কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি বাছাইয়ের দায়িত্ব উচ্চশিক্ষা দফতরের (Department of Higher Education)। ইতিমধ্যেই ৪১৮টি কলেজের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়েছে।

নতুন তালিকায় কলকাতা এবং জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কলেজের শীর্ষ পদে বসেছেন বিজেপির পরিচিত মুখেরা। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ (Tamoghna Ghosh), সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেনে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল (Priyanka Tibrewal) এবং আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজে শিশির বাজোরিয়া (Shishir Bajoria)। বাসন্তী দেবী কলেজে শশী অগ্নিহোত্রী হেরা (Shashi Agnihotri Hera), হেরাম্বচন্দ্র কলেজে রাজকমল পাঠক এবং যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজে অজয় অগ্নিহোত্রীর (Ajay Agnihotri) নাম রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি হয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। বেঙ্গল মিউজিক কলেজেও অঞ্জনা বসুর (Anjana Basu) নাম রয়েছে।

তবে এই নিয়োগকে ঘিরে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে, তা হল আগের সরকারের সময় যে ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে এত বিতর্ক হয়েছিল, পরিবর্তনের পর কি সেই ছবিই অন্য রঙে ফিরল? আগের সরকারের আমলেও একাধিক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় ছিলেন শাসকদলের সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী বা কাউন্সিলর। এমনকি একাধিক কলেজের দায়িত্বে একই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকার নজিরও ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই পুরনো ব্যবস্থার অবসানের কথা বললেও, বর্তমান তালিকায় বিজেপির (BJP) রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি সেই প্রশ্নকেই ফের সামনে এনে দিয়েছে।

ফলে বিতর্কটা শুধু কে কোন কলেজের সভাপতি হলেন, তা নিয়ে নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্ব কতটা থাকা উচিত, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে ইতিমধ্যেই নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ অভিযোগ ‘গৈরিকীকরণ’-এর পথেই এগোচ্ছে শিক্ষাঙ্গন। অর্থাৎ, আগের সরকারের জমানায় যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় তারই ছায়া দেখা যাচ্ছে।