কাকদ্বীপে(Kakdwip) ঊষারানি দাস ও দেবপ্রসাদ দাস খুনে চার্জশিট পেশ। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের দিন কাকদ্বীপের এই সিপিএম সমর্থক (CPM Supporter) দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক কারণেই ওই হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছিলেন মৃতদের পরিবার এবং বাম নেতৃত্ব। প্রায় ন’বছর পর সেই মামলায় চার্জশিট পেশ করল কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court)নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। মঙ্গলবার কাকদ্বীপ আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় তৃণমূল (TMC)সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। 

আরও পড়ুন: অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করা নিয়ে দমকলের নোটিশ খারিজ হাইকোর্টের

সিটের তরফে দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে এলাকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, কাকদ্বীপের বুধাখালি এলাকার সংশ্লিষ্ট বুথটি সে সময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল না। রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ভোটের আগের দিন ওই দম্পতিকে তাঁদের বাড়িতে আটকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিহত দম্পতির ছেলের অভিযোগ ছিল, প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তদন্তের গতিপথ অন্যদিকে ঘুরিয়ে কয়েকজন সিপিএম কর্মীকেই গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় ধৃতদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না বলেও পরবর্তী সময়ে দাবি ওঠে।

পুলিশের তদন্তে অসন্তুষ্ট হয়ে নিহত দম্পতির ছেলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আইপিএস আধিকারিক মুরলিধর শর্মার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে সিট। দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের ২৩ জুন নিহত দম্পতির ছেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করেন। এর পরদিনই এফআইআরে নাম থাকা ১০ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এসআইটি। এবার তাঁদের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশিট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল। আর সেই চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।