রাজ্যে পালাবদলের পর শহরের রাস্তার নাম নতুন করে পর্যালোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম বদলে প্রস্তাব সামনে আসছে। আলোচনায় উঠে এসেছে লেনিন সরণী, মেয়ো রোডের মত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম। এই আবহে এবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Sarat Chandra Chattopadhyay)  স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দেউলটি এবার পেতে পারে নতুন নাম। দেউলটি রেলওয়ে স্টেশনের (Deulti Station) নাম বদলে (Name Change) ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেলওয়ে স্টেশন’ করার দাবি উঠেছে। এই মর্মে রাষ্ট্রপতি ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রস্তাব জমা দিয়েছে অখিল ভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী (Rail Minister) অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Vaishnaw) কাছেও সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের প্রাক্কালে ভিডিও বার্তা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে এ বিষয়ে ডেপুটেশন দিয়ে এসেছে। দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তনের পক্ষে একাধিক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে। সংগঠনের বক্তব্য, দেউলটি ও তার আশপাশের এলাকার সঙ্গে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান এবং এই এলাকার সঙ্গে তাঁর স্মৃতির যোগসূত্রের কারণে দেউলটি তাঁর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শরৎচন্দ্রের স্মৃতিকে আরও স্থায়ীভাবে ধরে রাখা, বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেউলটিতে পর্যটনের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যেই স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।  সেইসঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগের বিষয়টিও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, স্টেশনের নামের সঙ্গে সাহিত্যিকের নাম যুক্ত হলে দেউলটির সঙ্গে শরৎচন্দ্রের সম্পর্ক আরও বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত হবে।

দেউলটি স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রূপনারায়ণ নদীর তীরে রয়েছে শরৎচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। জীবনের দীর্ঘ একটা সময় সেখানে কাটিয়েছিলেন সাহিত্যিক। রূপনারায়ণের তীর এবং দেউলটির পরিবেশ তাঁর সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। ‘দেনা-পাওনা’, ‘শেষ প্রশ্ন’-সহ তাঁর একাধিক সাহিত্যকর্মের সঙ্গে এই অঞ্চলের স্মৃতির যোগ রয়েছে। তাই রাজ্যের পালাবদলের পর বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে শরৎচন্দ্রের সেই বাসভবন সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাড়িটিতে সাহিত্যিকের ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্রও সংরক্ষিত রয়েছে। পর্যটক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সেই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি দেখার সুযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কথাশিল্পীর স্মৃতিকে আরও সম্মান জানাতেই দেউলটি স্টেশনের নাম তাঁর নামে করার দাবি সামনে আসে। রেলমন্ত্রকের তরফে অনুমতি মিললেই বদলে যাবে ষ্টেশনের নাম।